ভারতের মালয়ালম চলচ্চিত্রের গল্প বলার ধরন অন্য অনেক ভাষার সিনেমার চেয়ে আলাদা। এখানে সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক, অপরাধ, রহস্য আর মনস্তত্ত্ব উঠে আসে অসাধারণভাবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে কেরালার এই চলচ্চিত্রশিল্পের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে।
মালয়ালম সিনেমার সঙ্গে পরিচিত হতে চাইলে শুরু করতে পারেন কয়েকটি দারুণ সিনেমা দিয়ে। রহস্য-রোমাঞ্চ থেকে শুরু করে প্রেম, পারিবারিক টানাপোড়েন ও মনস্তাত্ত্বিক নাটকসহ এই তালিকায় আছে নানা স্বাদের ১০টি সিনেমা।
১৭ শতকের কেরালার পটভূমিতে নির্মিত এই সিনেমার গল্প এক যাযাবর লোক সংগীত শিল্পীকে নিয়ে। বনের মধ্যে রহস্যময় প্রাসাদে আশ্রয় নেওয়ার পর সে জড়িয়ে পড়ে ভয়ংকর এক পরিস্থিতিতে। সাদা-কালো দৃশ্য, লোককথা, অতিপ্রাকৃত ঘটনা ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব সিনেমাটিকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা। সিনেমাতে অভিনয় করেছেন মাম্মুটি, অর্জুন অশোকন, সিদ্ধার্থ ভারতন।
শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথ থেকে অনুপ্রাণিত এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র জোজি। ধনী পরিবারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী এক তরুণ সে। কর্তৃত্বপরায়ণ বাবার ছায়া থেকে বেরিয়ে ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু সেই আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে তাকে সন্দেহ, ষড়যন্ত্র ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন ফাহাদ ফাসিল, বাবুরাজ, উন্নিমায়া প্রসাদ।
কোচিতে একের পর এক পুলিশ কর্মকর্তা খুন হতে থাকেন। রহস্য উদঘাটনে তদন্তে যুক্ত হন একজন অপরাধবিজ্ঞানী। তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে ভয়ংকর সব তথ্য। শেষ পর্যন্ত কী ঘটবে, তা নিয়ে দর্শককে টানটান উত্তেজনায় রাখে সিনেমাটি। এতে অভিনয় করেছেন কুঞ্চাক্কো বোবান, শরফুদ্দিন, উন্নিমায়া প্রসাদ।
বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত সিনেমাটিতে ইরাকের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া একদল ভারতীয় নার্সের বেঁচে থাকার লড়াই দেখানো হয়েছে। চারদিকে সহিংসতা, অনিশ্চয়তা আর পালানোর পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসে। তার মধ্যে সাহস ও টিকে থাকার চেষ্টা সিনেমাটির মূল আকর্ষণ। অভিনয় করেছেন পার্বতী তিরুভোথু, ফাহাদ ফাসিল, কুঞ্চাক্কো বোবান।
উপকূলীয় একটি শহরের প্রভাবশালী নেতা সুলায়মান আলির জীবনকে কেন্দ্র করে সিনেমার গল্প। সময়ের সঙ্গে তার ক্ষমতা বাড়ে, তৈরি হয় বিতর্কও। রাজনীতি, অপরাধ, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের টানাপোড়েন ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক মিলিয়ে সিনেমাটি ক্ষমতার জটিল হিসাব-নিকাশ তুলে ধরে। অভিনয় করেছেন ফাহাদ ফাসিল, নিমিশা সাজয়ন, বিনয় ফোর্ট, জোজু জর্জ।
মদ্যপানের সমস্যায় থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় ধারাবাহিক খুনের তদন্তের। খুনগুলোর মধ্যে অদ্ভুত একটি যোগসূত্র রয়েছে। তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। অপরাধ অনুসন্ধান ও মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েনের মিশেলে সিনেমাটি দর্শককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখে। অভিনয় করেছেন পৃথ্বীরাজ সুকুমারন, মেঘনা রাজ, বিজয়ারাঘবন।
এক তরুণের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি এই সিনেমা। স্কুলজীবনের ভালো লাগা থেকে শুরু করে বড় হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা সবই উঠে এসেছে হাস্যরস, আবেগ ও নস্টালজিয়ার মিশেলে। গান ও স্বাভাবিক গল্প বলার ধরন সিনেমাটিকে দর্শকের কাছে বিশেষ জনপ্রিয় করে তুলেছে। অভিনয় করেছেন নিবিন পাওলি, সাই পল্লবী, ম্যাডোনা সেবাস্টিয়ান।
ছোট শহরের এক আলোকচিত্রী মহেশ। এক মারামারির ঘটনায় সবার সামনে অপমানিত হওয়ার পর সে প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত জুতা পরবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সাধারণ প্রতিশোধের গল্পটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে আত্মসম্মান, ব্যক্তিগত পরিবর্তন ও গ্রামীণ জীবনের মজার এক সিনেমা। অভিনয় করেছেন ফাহাদ ফাসিল, অপর্ণা বালামুরালি, সৌবিন শাহির।
একটি অপরাধের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে এক সাধারণ পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সবাইকে রক্ষা করতে বুদ্ধি ও পরিকল্পনার আশ্রয় নেয় টেলিভিশন কেবল অপারেটর জর্জকুট্টি। পুলিশের তদন্ত যত এগোয়, ততই বাড়ে উত্তেজনা। বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্য ও অপ্রত্যাশিত মোড়ের কারণে এটি ভারতীয় থ্রিলার সিনেমার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। অভিনয় করেছেন মোহনলাল, মীনা, আশা শরৎ।
কোচির কাছের একটি জেলেপল্লিতে চার ভাইয়ের জীবন নিয়ে সিনেমার গল্প। প্রেম, নিঃসঙ্গতা, ভাইদের দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন উঠে এসেছে এতে। শুরুতে সাধারণ জীবনঘনিষ্ঠ গল্প মনে হলেও ধীরে ধীরে সামনে আসে অন্ধকার দিক। সাধারণ মানুষের জীবনকে অসাধারণভাবে পর্দায় তুলে ধরার এক চমৎকার উদাহরণ এই সিনেমা। অভিনয় করেছেন শেন নিগাম, সৌবিন শাহির, ফাহাদ ফাসিল।
এখন কথা হলো, কোথা থেকে শুরু করবেন? রহস্য ও বুদ্ধির লড়াই পছন্দ হলে দৃশ্যম বা আঞ্জাম পাথিরা দেখতে পারেন। আবেগঘন প্রেমের গল্পের জন্য প্রেমম, আর সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পর্কের গল্প পছন্দ হলে কুম্বালাঙ্গি নাইটস ভালো লাগতে পারে।