1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৬ অপরাহ্ন

ট্রাম্পের জামাতার ফোন হ্যাক, সৌদি-আমিরাতের সঙ্গে গোপন লেনদেন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও সাবেক হোয়াইট হাউস উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের বিরুদ্ধে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ইসরায়েলের নেতাদের সঙ্গে কথিত গোপন আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। ভ্যানিটি ফেয়ার সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালনের সময় কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে ডাচ গোয়েন্দারা এসব কথিত লেনদেনের তথ্য পেয়েছিলেন। তবে অভিযোগগুলো জোরালোভাবে অস্বীকার করেছেন কুশনার। তার ভাষায়, এসব দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’। তার আইনজীবীও অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ার-এর প্রতিবেদনটি ম্যাথিউ কোলের আসন্ন বই প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস: জ্যারেড কুশনার অ্যান্ড মোহাম্মদ বিন জায়েদের সিক্রেট প্লট টু রিমেক দ্য মিডল ইস্ট থেকে নেওয়া একটি অংশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ডাচ গোয়েন্দারা গোপনে কুশনারের আইফোনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহারের তথ্য পান বলে দাবি করা হয়েছে। ওই হিসাবে আজারবাইজানের একটি ব্যাংক থেকে কয়েক শ মিলিয়ন ডলার জমা পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনটির দাবি, আবুধাবি ফার্স্ট ব্যাংকে ওয়াতানি আল এমারাত ফাউন্ডেশন নামের সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের হিসাবে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা হয়েছিল। কুশনার ওই হিসাবের স্বাক্ষরকারী ছিলেন বলে দাবি করা হলেও তিনি হিসাবটির মালিক ছিলেন না। হিসাবটি তদারকি করতেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদের ভাই এবং ব্যাংকটির চেয়ারম্যান তাহনুন বিন জায়েদ। প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তাহনুন বিন জায়েদ ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিসংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য একটি বিশেষ তহবিল গঠনের ধারণা দিয়েছিলেন। দুই উপসাগরীয় নেতা কুশনারের জন্য দুটি হিসাবে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলার জমা দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া প্রতিবেদনে আরও একটি ব্যাংক হিসাবের কথা বলা হয়েছে, যার মাধ্যমে সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কুশনারের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ১ বিলিয়ন ডলার স্থানান্তরের অভিযোগ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এই অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অর্থটি ইসরায়েলে জমা রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব লেনদেন নিয়ে কুশনার তৎকালীন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফ্রিডম্যানের মাধ্যমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুশনার অভিযোগগুলোকে ‘ভয়াবহ বানোয়াট গল্প’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, এসব বক্তব্য অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নামে প্রকাশ করা হয়েছে, অথচ অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ দেওয়া হয়নি। কুশনার লেখেন, তিনি ও তার পক্ষ থেকে প্রতিটি অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবেদনের লেখক কোনো ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অর্থ স্থানান্তরের নথি, হিসাব নম্বর, লেনদেনের তারিখ কিংবা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট সময়ে তিনি বিশ্বের অন্যতম বেশি নজরদারির মধ্যে থাকা ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। গণমাধ্যমের ব্যাপক অনুসন্ধান, কংগ্রেসের একাধিক তদন্ত এবং বিশেষ কৌঁসুলির তদন্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। কুশনারের ভাষ্য, এসব তদন্তে তিনি স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করেছেন এবং ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো সত্য হলে সেসব তদন্তের সময়ই তা সামনে আসত। কুশনারের আইনজীবী চ্যাড মিজেলও অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এগুলো ব্যাখ্যার পার্থক্য বা পরস্পরবিরোধী স্মৃতির বিষয় নয়; বরং কথিত ব্যাংক হিসাবগুলোরই অস্তিত্ব নেই। তার মতে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই এসব গুরুতর ও মানহানিকর অভিযোগ তোলা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যবহারকারী তাকে মামলা করার বিষয়ে প্রশ্ন করলে মিজেল জবাবে বলেন, ‘সব বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে।’ ৪৫ বছর বয়সী কুশনার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ট্রাম্পের মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কুশনার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে ট্রাম্পের অনানুষ্ঠানিক শান্তি প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ