1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি ‘রাস্ট্রাচার’ ভঙ্গের অভিযোগে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারকে প্রত্যাহার | Boishakhi Online প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণাঞ্চল সফর ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার আফগানিস্তানের কাছে লজ্জাজনক হার, টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় বাংলাদেশের নরসিংদীতে ডাইং মিলের বয়লারে আগুন, দগ্ধ ৫ জন ঢাকা মেডিকেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভূমিমন্ত্রী মিনু ব্যাটিং ব্যর্থতায় আরেকটি পরাজয়ে বিব্রতকর বিদায় বাংলাদেশের উত্তরাধিকার সূত্রে ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে সরকার : অর্থ উপদেষ্টা অনূর্ধ্ব ১৯ নারী টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচি ঘোষণা ইউক্রেইন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনায় বসতে রাজি পুতিন

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের মরিয়া কূটনীতি, ফের ত্রিমুখী শান্তি আলোচনায় পুতিনের সম্মতি

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৬ Time View

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মধ্যস্থতায় আগামী মাসে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গতকাল বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর ক্রেমলিন এ তথ্য জানায়। সম্ভাব্য আলোচনার স্থান হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির নাম উঠে এসেছে। আগামী ১০ নভেম্বর বা তার পরে আলোচনা শুরু হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত হিসেবে বিবেচিত ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটনের নতুন এই উদ্যোগ এমন সময়ে সামনে এল, যখন মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তিচুক্তির শর্ত নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। একই সময়ে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে নতুন আলোচনা নিয়ে সম্মতি দিলেও যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো থেকে সরে আসার কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি পুতিন।

বুধবার সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি রাজকীয় প্রাসাদে পুতিন ও উইটকফের বৈঠক প্রায় তিন ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পুতিনের সঙ্গে এটি ছিল মার্কিন বিশেষ দূতের নবম সরাসরি বৈঠক। আলোচনার শুরুতে সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে রাশিয়ায় আটক অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন স্কুলশিক্ষক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে তাঁকে মুক্তি দিতে পুতিনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ক্রেমলিনের ভাষ্য, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা হবে কারিগরি পর্যায়ে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে সেখানে। তবে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামো, অংশগ্রহণকারীদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কিংবা কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার রূপরেখা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে সফল হয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি একসময় দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির দুই বছরেরও বেশি সময় পরও সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি কিয়েভের ওপর চাপ বাড়িয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে। তা না হলে দেশটিকে ‘খুব খারাপ পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হবে।

তবে যুদ্ধ বন্ধে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে ব্যবধান এখনো বিস্তর। পুতিনের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ প্রত্যাখ্যান এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি সম্পাদন। এসব শর্তে ইউক্রেনের সম্মতির কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে সেই কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ তাই ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের বৃহত্তর বৈদেশিক নীতির চাপও সামনে নিয়ে এসেছে।

অসলো বৈঠকের অগ্রগতি নিয়ে সংশয় মস্কোর

সেন্ট পিটার্সবার্গে পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগের দিন অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতারা এবং ইউরোপীয় ও ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন উইটকফ। তিনি পুতিনকে জানান, অসলো বৈঠকে আলোচনায় কিছুটা গতি তৈরি হয়েছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন সেখানে নতুন ধারণা ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। তবে এসব প্রস্তাবে মস্কো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ সেন্ট পিটার্সবার্গের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, অসলো আলোচনার কিছু বিষয় রাশিয়ার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি।

এদিকে জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা করতে চান তিনি। তবে ক্রেমলিনের অবস্থান, পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের আগে দুই নেতার সহযোগীদের বিস্তারিত প্রস্তুতি নিতে হবে, যাতে বৈঠকটি বাস্তবসম্মত ও ফলপ্রসূ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন টানাপোড়েন বাড়ছে

রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন তৈরি করেছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল রপ্তানিবিষয়ক একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর দেশটিতে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আইনসভা নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে।

ডিজেল চুক্তির পর ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিছু গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি সামরিক যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহারেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার অসলো বৈঠকে এসব সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বুধবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত সপ্তাহে ধনকুবের ইলন মাস্ক ইউক্রেনের ব্যবহৃত স্পেসএক্সের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সেবার সামরিক কাজে ব্যবহৃত একটি সংস্করণের কার্যক্রম ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত ও সেগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণে ইউক্রেন এই সেবার ওপর নির্ভর করে। তবে প্রতিবেদনটি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করতে পারেনি বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইলন মাস্ক বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা মার্কিন সামরিক বাহিনী অথবা প্রেসিডেন্ট নিয়ে থাকেন। ট্রাম্পও বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো দায় নেই। বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, ওয়াশিংটন ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের সক্ষমতা প্রত্যাহার করেনি।

নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর বিষয়ে পুতিনের সম্মতি ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগে একটি অগ্রগতি হলেও যুদ্ধের অবসান এখনো অনিশ্চিত। ইউক্রেনের ভূখণ্ড, ন্যাটো সদস্যপদ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার মতো মৌলিক প্রশ্নে দুই পক্ষের অবস্থান বিপরীতমুখী। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে অনিশ্চয়তা শান্তি আলোচনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আবুধাবিতে সম্ভাব্য আলোচনা শুরু হলে তার মূল পরীক্ষা হবে, দুই পক্ষ নিজেদের মৌলিক দাবিতে কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত। আপাতত আলোচনার দরজা খুলছে, কিন্তু সেই দরজা দিয়ে যুদ্ধের অবসান পর্যন্ত পৌঁছানো যাবে কি না, তা নির্ভর করবে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রশ্নে বাস্তব সমঝোতার ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ