1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
৬ ইংলিশ ক্লাবের কাছ থেকে সুপার লিগের খরচ চায় রেয়াল মাদ্রিদ ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, কমবে খরচ কাল খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ৫১ সেকেন্ডের নতুন ভিডিওতে পরীমনি, মুহূর্তেই ভাইরাল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে কঠিন সমীকরণ আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়ে দ্বিগুণ হলেও সক্ষমতায় পিছিয়ে দেশের বিমানবন্দরগুলো আগস্টে আগের বছরের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ৩০%, তবে জুলাইয়ের তুলনায় ৫.৪% কমেছে ৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলীকে প্রত্যাহার বাংলাদেশ-জাপান মেডিকেল ট্যুরিজম বাড়াতে চুক্তি সই

আগস্টে আগের বছরের তুলনায় ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে ৩০%, তবে জুলাইয়ের তুলনায় ৫.৪% কমেছে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৪ Time View

চলতি বছরের আগস্টে দেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৩০ দশমিক ০৩ শতাংশ বেশি।

২০২৫ সালের আগস্টে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। তবে মাসভিত্তিক হিসাবে জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে লেনদেন কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জুলাইয়ে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে প্রায় ৯৮৭ কোটি টাকা খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা। বিপরীতে, বিদেশে ইস্যু করা কার্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে লেনদেন হয়েছে প্রায় ২৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ বিদেশি কার্ডধারীরা বাংলাদেশে যে পরিমাণ অর্থ খরচ করেছেন, তার প্রায় চার গুণ অর্থ বিদেশে খরচ করেছেন বাংলাদেশি কার্ডধারীরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ডের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেনের প্রবণতাও জোরদার হচ্ছে।

প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, 'দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ভোক্তাদের লেনদেনব্যবস্থায় নগদ অর্থের প্রাধান্য রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নগদ লেনদেনের প্রচলন ধারাবাহিকভাবে কমছে।'

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলেছে, 'ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে লেনদেনের ব্যবহার দ্রুত বাড়াতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোয় একাধিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে।'

পাঁচ বছরে কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে ইস্যু করা ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। একই সময়ে এসব কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের মোট পরিমাণ বেড়েছে ১০৩ শতাংশ।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বর শেষে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪২ লাখ, ক্রেডিট কার্ড ১৭ লাখ ৬২ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ড ১০ লাখ ২৬ হাজার। সব মিলিয়ে কার্ডের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ।

২০২৬ সালের আগস্টে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ কোটি ১ লাখ, ক্রেডিট কার্ড ২৮ লাখ ৫ হাজার এবং প্রিপেইড কার্ড ৯২ লাখ ৭০ হাজার। এতে তিন ধরনের কার্ডের সম্মিলিত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২৯ লাখ।

গত পাঁচ বছরে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রিপেইড কার্ডের সংখ্যা—৮০৩ শতাংশ। একই সময়ে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা বেড়েছে ৬৯ শতাংশ এবং ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ৫৯ শতাংশ। তবে সংখ্যার দিক থেকে ডেবিট কার্ডই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এদিকে, পাঁচ বছরে কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের মোট পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে এসব কার্ডে লেনদেন হয়েছিল ২৪ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা, যা ২০২৬ সালের আগস্টে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯ হাজার ৭৭০ কোটি টাকায়।

ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে

আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে। এ খাতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা, যা মোট লেনদেনের ৪৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের মাস জুলাইয়ে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা, যা ছিল মোট লেনদেনের ৫০ দশমিক ৩১ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা, ব্যাংকগুলোর বিভিন্ন প্রচারমূলক অফার এবং ক্রেডিট কার্ড গ্রহণের সুযোগ বাড়ার কারণে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কার্ডের ব্যবহার বেশি হতে পারে।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, এগুলো সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পৃথক কোনো পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।

আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডে মোট লেনদেনের ৯৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ হয়েছে পণ্য ও সেবা কেনাকাটায়। অন্যদিকে, নগদ অর্থ উত্তোলনের অংশ ছিল ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং তহবিল স্থানান্তরের অংশ ছিল শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।

এসব তথ্য থেকে দেখা যায়, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য এখনো কেনাকাটা। তবে মোট লেনদেনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নগদ অর্থ উত্তোলনের জন্যও ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিদেশে বাংলাদেশিদের কার্ডে খরচ ৯৮৭ কোটি টাকা

আগস্টে বাংলাদেশে ইস্যু করা ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশে মোট ৯৮৭ কোটি টাকার লেনদেন করেছেন বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ডে ৫০৫ কোটি, ডেবিট কার্ডে ৪২২ কোটি এবং প্রিপেইড কার্ডে ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। জুলাইয়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৬টি লেনদেন হলেও আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার ১৫০টিতে। একই সময়ে লেনদেনের পরিমাণ ৫২৬ কোটি টাকা থেকে কমে ৫০৫ কোটি টাকায় নেমেছে।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে, যা মোট ব্যয়ের ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, পরিবহন খাতে ১২ দশমিক ০৯ শতাংশ এবং ওষুধ ও ফার্মেসিতে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক সেবা, পোশাক কেনাকাটা, সরকারি ও পেশাগত সেবা, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং নগদ অর্থ উত্তোলনেও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশিরা।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, যা মোট ব্যয়ের ১৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে থাইল্যান্ডে ১০ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ভারতে ৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সিঙ্গাপুরে ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, বিদেশে ডেবিট কার্ডে লেনদেন জুলাইয়ের ৪০১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে আগস্টে ৪২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ খরচ হয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। এরপর রয়েছে সরকারি সেবায় ১৭ দশমিক ১২ শতাংশ, ব্যবসায়িক সেবায় ১৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং নগদ অর্থ উত্তোলনে ১২ দশমিক ৯২ শতাংশ।

বিদেশে ডেবিট কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে যুক্তরাজ্যে, যা মোট ব্যয়ের ১৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ভারতে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

এদিকে, বিদেশে প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমেও লেনদেন বেড়েছে। জুলাইয়ে এ ধরনের কার্ডে ৫৮ কোটি টাকা খরচ হলেও আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি টাকায়।

প্রিপেইড কার্ডে সবচেয়ে বেশি ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ খরচ হয়েছে সরকারি সেবায়। এরপর রয়েছে নগদ অর্থ উত্তোলনে ১৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ব্যবসায়িক সেবায় ১৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

দেশভিত্তিক হিসাবে প্রিপেইড কার্ডে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে ভারতে, যা মোট ব্যয়ের ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ, সৌদি আরবে ১০ দশমিক ২১ শতাংশ এবং যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ