ইরানের সামরিক বাহিনীর অর্থ ফুরিয়ে আসছে এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা দিতে হিমশিম খাচ্ছে—এমন দাবি করেছে ওয়াশিংটন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। তবে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে তেহরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার দাবি করেছেন, ইরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল রপ্তানি আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করতেও সহায়তা করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) পক্ষে সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।
কুপার আরো দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নিজেদের যোদ্ধাদের বেতন আটকে রাখছে, যাতে সেই অর্থ আইআরজিসির কাছে পাঠানো যায়।
তবে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান আবদোলনাসের হেম্মতি দেশটির অর্থনীতি ধসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে—এমন ধারণা নাকচ করে দিয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি ‘নিছক কল্পনা’ বলে অভিহিত করেছেন।
তবে অর্থনৈতিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইরানের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। অন্যদিকে, যুদ্ধ ও নৌ অবরোধের কারণে সৃষ্ট সংকটের কথা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনের হুথিদের মতো ইরানের আঞ্চলিক মিত্ররাও আর্থিক সংকটে পড়েছে। তবে এসব মিত্রকে সহায়তা দেওয়া থেকে তেহরান সরে আসবে, এমন সম্ভাবনা কম।