বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ সহজ করার ক্ষেত্রে অন্তত ১০৭টি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করেছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি প্রতিবন্ধকতা শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংক্রান্ত।
চিহ্নিত সমস্যাগুলো অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শুল্ক ও কর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ব্যবসা সহজীকরণ (ইজ অব ডুয়িং বিজনেস) সংক্রান্ত কমিটির সভায় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সামনে এসব প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হয়। তবে এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে ব্যবসা পরিচালনার বিদ্যমান বাধাগুলো চিহ্নিত করে তা দূর করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ২২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। শনিবার কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, "ব্যবসা সহজীকরণের ক্ষেত্রে ১০৭টি সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি কাস্টমস ও ভ্যাট সংক্রান্ত। কয়েকটি সমস্যা ইতোমধ্যে সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।"
তিনি বলেন, "কমিটির প্রথম সভা আমাদের আশাবাদী করেছে। পরবর্তী সভায় সমস্যা সমাধানের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর হবে বলে আমরা আশা করছি।"
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম টিবিএসকে বলেন, "কাস্টমস, বন্ড, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।"
তিনি বলেন, "এইচএস কোড নির্ধারণ ও পণ্যের মূল্যায়নে কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, পণ্য পরীক্ষার নামে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি, বন্ড লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষার নামে ঘুষ দাবি এবং কাঁচামালের এনটাইটেলমেন্ট অনুমোদনে হয়রানিসহ নানা সমস্যা রয়েছে।"
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এসব সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও কার্যকর সমাধান তেমন হয়নি।
ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) সভাপতি রূপালী চৌধুরী টিবিএসকে বলেন, "বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুতে বিলম্ব এবং ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতাও বড় সমস্যা। এসব বিষয় মূলত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন।"
সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যক্রমে অটোমেশনের ধীরগতি, কর ও ভ্যাট রিফান্ডের অর্থ আটকে থাকা এবং নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরীক্ষার নামে হয়রানির অভিযোগও উঠে আসে।
এ ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশি ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
সরকারের দ্রুত পদক্ষেপে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা
সভায় কয়েকটি সমস্যা দ্রুত সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে সমাধানযোগ্য সমস্যাগুলো নিষ্পত্তি করে আগামী এক মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী সভায় অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রূপালী চৌধুরী বলেন, "সভায় একটি সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন পাওয়ার পর কারখানা স্থাপন করলেও ফায়ার ও পরিবেশগত ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদনের আগেই কার্যক্রম শুরু করা যাবে। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরিদর্শন ও পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দেবে।"
তিনি বলেন, "এতে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ কমবে। ব্যবসা সহজ করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় উদ্যোগ হবে বলে আমরা মনে করছি।"
রূপালী চৌধুরী আরও জানান, বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনের আবেদন ও নিষ্পত্তি সরকারের নির্ধারিত একটি একক পোর্টালের মাধ্যমে সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিলে সেটিকে অনুমোদিত হিসেবে গণ্য করা হবে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কমিটি কাজ করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। এর মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।"
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.