তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রিট আবেদনকারী আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ব্যাংক কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) ২০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিয়ন্ত্রণে রাখার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।
একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে রিট আবেদনকারী আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতেও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বিচারপতি শওকত আলী চৌধুরী ও বিচারপতি আব্দুর রবের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।
ইবিএলের ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডার ও ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী কামরুল ইসলাম জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেন। আবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ মোট ৯ জনকে বিবাদী করা হয়। শওকত আলী চৌধুরী এ মামলার ৯ নম্বর বিবাদী।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, ইশরাত হাসান ও বিপ্লব কুমার দাশ।
আদেশের পর রিটকারীর আইনজীবী ইশরাত হাসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ব্যাংকের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করতে পারেন না।”
তার দাবি, শওকত আলী চৌধুরী নিজে এবং আত্মীয়দের মাধ্যমে মোট ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন।
ইশরাত হাসান বলেন, “একাধিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করে গত ২৯ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংক এ-সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা পায়। তবে এরপরও শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে রিটকারীর অভিযোগ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন গত ১৯ অগাস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া হলেও তা নিষ্পত্তি করা হয়নি।”
রিটে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিষ্ক্রিয়তা ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(ক) ধারার ৩ ও ৫ উপধারার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ কি না এবং অতিরিক্ত শেয়ারের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শওকত আলী চৌধুরী তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এস এন করপোরেশনের কর্মচারী ও নিজের শ্যালিকাকে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ব্যবহার করে মেসার্স আরুশা অ্যান্ড কোং এবং আনিকা শেয়ার্স অ্যান্ড সিকিউরিটিজের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করছেন।
এসব শেয়ারের বিপরীতে পাওয়া নগদ লভ্যাংশ জমি কেনার অগ্রিম চুক্তির মাধ্যমে তার নিজের ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে চুক্তিগুলোর যথার্থতা নিয়েও রিটে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ ও শেয়ার বাজেয়াপ্তের সম্ভাবনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট শেয়ার বিক্রির চেষ্টা চলছে বলে রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়।
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস ও অদৃশ্য শ্রমের গল্প
কী মধু ভিসি পদে, সবাই কেন ইঁদুর দৌড়ে?
‘হোটেল রুয়ান্ডা’র বাইরের গল্প এবং নাভি পিল্লাইয়ের লড়াই