দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সোবহানা মোস্তারির সেঞ্চুরি ও কিছু ব্যক্তিগত মাইলফলক ছাড়া অস্ট্রেলিয়া সফরে বলার মতো কোনো প্রাপ্তি নেই বাংলাদেশের।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ার আগে প্রত্যাশা এমনিতেও ছিল অল্প। মাঠের পারফরম্যান্সে চমকপ্রদম কিছু করে ভিন্ন গল্প লিখতে পারেনি বাংলাদেশ। আগের দুই ম্যাচের মতো শেষ ম্যাচেও লড়াই জমাতে পারল না তারা। আরেকটি অনায়াস জয়ে নিগার সুলতানার দলকে হোয়াইটওয়াশ করল অস্ট্রেলিয়া।
ব্রিজবেনের অ্যালান বোর্ডার ফিল্ডে বুধবার বাংলাদেশের ৮ উইকেটে হারাল অস্ট্রেলিয়া। ১৭৩ রানের লক্ষ্য মাত্র ২২.৪ ওভারে ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
ফিফটি করে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তার। ব্যক্তিগত এই দুটি ছোট্ট প্রাপ্তি ছাড়া বলার মতো কিছু আর করতে পারেনি দল।
প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গিয়ে গোটা সফরের চিত্রই আসলে এটি। কিছু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছাড়া প্রাপ্তি আর কিছু নেই। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১১৮ রান করে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়েন মিডল-সোবহানা মোস্তারি। একই ম্যাচে নিগার সুলতানার সঙ্গে গড়েন দেশের সর্বোচ্চ জুটিরও (১৯৫) রেকর্ড।
এর আগে-পরে সব বিভাগে শুধুই হতাশা। তিন ম্যাচের দুটিতে ১৭৫ রানও করতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচে শারমিন ও স্বর্ণার লড়াইয়ে তবু বলার মতো সংগ্রহ দাঁড় করাতে পারে তারা। কিন্তু এলিসা পেরি ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের ব্যাটে শেষ পর্যন্ত মামুলি হয়ে যায় সেই লক্ষ্য।
সিরিজে তৃতীয়বার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাহলিয়া ম্যাকগ্রা। প্রথম দুই ম্যাচে হতাশ করা ফারজানা হক, নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তারকে একাদশের বাইরে রেখে খেলতে নামে বাংলাদেশ।
নতুন বলে টানা দশ ওভারের স্পেলে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন মেগান শুট। আগের দুই ম্যাচে ৬ উইকেট পাওয়া অভিজ্ঞ পেসার এবার ১০ ওভারে পাঁচ মেডেনসহ মাত্র ১৬ রানে নেন ৪ উইকেট। তিনিই জেতেন ম্যাচ ও সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
আগের দুই ম্যাচেই শূন্য রানে আউট হওয়া অভিজ্ঞ ফারজানার বদলে সুযোগ পান মুর্শিদা খাতুন। প্রায় ২১ মাস পর আবার ওয়ানডে খেলতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার। শুটের অফ স্টাম্পের বাইরের বল দূর থেকে খেলতে গিয়ে গালিতে ক্যাচ দেন ১ রান করা ব্যাটার।
পাওয়ার প্লের মধ্যে শারমিন সুলতানা ও নিগার সুলতানাকেও ফেরান শুট। শারমিন আক্তারকে নিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সোবহানা। তাকেও বেশি দূর যেতে দেননি অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ পেসার। সপ্তদশ ওভারে বাংলাদেশের রান তখন ৪ উইকেটে ৪৫।
ধুঁকতে থাকা দলের হাল ধরেন শারমিন ও স্বর্ণা। শুটের ১০ ওভার শেষ হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি নিয়েই খেলতে শুরু করেন তারা। তবে রানের গতি ছিল মন্থর।
৮টি চার মারলেও ফিফটি করতে ৯২ বল লাগে শারমিনের। ওয়ানডেতে তার দ্বাদশ ফিফটি এটি। ২০২৪ সালে দলে প্রত্যাবর্তনের পর ২৪ ইনিংসে পঞ্চাশ ছুঁলেন ৯ বার। এই সময় তিনি রান করেছেন প্রায় ৪৪ গড়ে।
পঞ্চাশ ছুঁয়ে আর টিকতে পারেননি ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার। দলের একশ হওয়ার আগেই পেরির বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন তিনি।
বাকি সময়ে দলকে এগিয়ে নেন মূলত স্বর্ণাই। সাবলিল ব্যাটিংয়ে তুলনামূলক দ্রুত রান করেন ১৯ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি করতে তিনি খেলেন ৬৭ বল। ইনিংসের শেষ দিকে সাদারল্যান্ডের বাউন্সারে বেথ মুনির দুর্দান্ত কিপিংয়ে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তরুণ অলরাউন্ডার।
শুটের ৪ উইকেটের পাশাপাশি অ্যাশ গার্ডনার ও সাদারল্যান্ড নেন ২টি করে উইকেট।
সহজ লক্ষ্যে দ্বিতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। সুলতানা খাতুনের বলে সুইপ খেলার চেষ্টায় এলবিডব্লিউ হন জর্জিয়া ভল।
ষষ্ঠ ওভারে আরেক ওপেনার মুনিকে ফিরিয়ে দেন অভিষিক্ত পেসার দিশা বিশ্বাস। অ্যাঙ্গেলে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে জায়গা বানিয়ে ড্রাইভের চেষ্টায় বোল্ড হন শততম ওয়ানডে খেলতে নামা কিপার-ব্যাটার। মাইলফলকের ম্যাচে ভালো শুরুর পরও ১৪ বলে ২১ রানে ফেরেন তিনি।
এরপর আর আনন্দের উপলক্ষ পায়নি বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ১০৪ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন সাদারল্যান্ড ও পেরি। চতুর্থ ফিফটিতে স্রেফ ৫২ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলেন সাদারল্যান্ড।
ক্যারিয়ারের ৩৮তম ফিফটিতে ৬৪ বলে ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন পেরি। পুরো সিরিজে একবারও তাকে আউট করতে পারেনি বাংলাদেশ।
ওয়ানডেতে তিনটি সেঞ্চুরিও আছে ৩৬ ছুঁইছুঁই অলরাউন্ডারের। সব মিলিয়ে ৪১টি পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন তিনি। সাবেক অধিনায়ক কারেন রল্টন ৩৩ ফিফটির সঙ্গে ৮টি সেঞ্চুরি করে এত দিন একাই ছিলেন চূড়ায়।
বাংলাদেশের এই সফরে তিনটি টি-টোয়েন্টিও ছিল। তবে পরে বাতিল করা হয় সেই সিরিজ। অস্ট্রেলিয়া এখন টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাংলাদেশ: ৪৯.৫ ওভারে ১৭২ (মুর্শিদা ১, শারমিন সুলতানা ৬, শারমিন আক্তার ৫০, নিগার ৩, সোবহানা ৯, স্বর্ণা ৫৪, রিতু ৯, রাবেয়া ১৩, দিশা ১৩*, হাবিবা ০, সুলতানা ৫; শুট ১০-৫-১৬-৪, গার্থ ১০-১-৩৭-০, গার্ডনার ৯.৫-০-৪৯-২, কেয়ারি ৪-০-১৬-০, পেরি ৫-০-১০-১, কিং ৫-০-১৬-১, সাদারল্যান্ড ৬-০-২৫-২)
অস্ট্রেলিয়া: ২২.৪ ওভারে ১৭৫/২ (ভল ১১, মুনি ২১, পেরি ৬৫*, সাদারল্যান্ড ৭৪*; হাবিবা ৫.৪-০-৪৪-০, সুলতানা ৩-০-৩২-১, দিশা ৫-১-৪০-১, রাবেয়া ৩-০-২০-০, রিতু ৪-০-১৮-০, স্বর্ণা ২-০-১৭-০)
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ৩-০ ব্যবধানে জয়ী
নিরাপদ পূজা কোনো অনুগ্রহ নয়, নাগরিক অধিকার
তৌফিক ভাইকে নিয়ে একটি নির্মোহ বিশ্লেষণের প্রয়াস
ফুটপাত: নেপথ্যের চক্র, কালো অর্থনীতি ও উচ্ছেদ নাটক