“দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়,” বলেন তিনি।
আদালতে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
একজন বিএনপিকর্মীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান।
ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুলতান মনসুর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে সংস্কারপন্থি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর দলীয় পদ হারান তিনি।
২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি কামাল হোসেনের গণফোরামে ভেড়েন।
বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐকফ্রন্ট গঠন করে গণফোরামসহ কয়েকটি দল নির্বাচন করে। সিলেট-২ আসনে বিজয়ী হন সুলতান মনসুর।
তবে জোটের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়ায় সুলতান মনসুরকে গণফোরাম থেকে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ভোরে কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে দিন তাকে যুবদল নেতা শামীম মোল্লা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পল্টন থানায় মামলাটি করা হয়।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন এ যুবদল নেতা নিহত হন।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে শামীম হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন সুলতান মনসুর।
এরপর ৯ অক্টোবর তাকে বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবির হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন পল্টন মডেল থানার এসআই আবু সালেহ।
আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন বুধবার।
এদিন শুনানিকালে সুলতান মনসুরকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী মো. হাসিব শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ।
শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন সুলতান মনসুর।
তিনি বলেন, “মাননীয় আদালত, আপনি যে আসনে বসে আছেন সেখান থেকে নিদ্ধান্ত আসবে। দুই বছর পর আজকে আবার আমাকে পুনরায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। ২০২২ সালের ঘটনার মামলার সাথে আমি জড়িত। ২২ বছর আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে দূরে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে অংশ নিই। আমাদের সাথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রুমিন ফারহানারাও অংশ নেন। আমরা সংসদের এমপি ছিলাম।”
সুলতান মনসুর বলেন, “আপনি জানেন, আমি ডাকসুর ভিপি ছিলাম। আমাদের সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়। আমরা এরশাদকে সরিয়ে স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।
“আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছি। জামিন পাওয়ার পর গত তিন দিনে আমার বিরুদ্ধে চারটা মামলা হয়েছে।”
ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, “গত ২২ বছর দৃঢ়তার সাথে সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলেছি। আমি সংসদে ছিলাম কিন্তু আওয়ামী লীগে না। আমার বিরুদ্ধে এ সমস্ত মামলা, মামলায় জড়িত থাকার কারণ জানতে পারিনি। জামিন হওয়ার পর নতুন নতুন মামলা হচ্ছে।”
দীর্ঘদিন কারাগারে থাকায় পরিবারে আর্থিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তুলে ধরে তিনি আদালতকে বলেন, “সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি।
“১৯৬৮ সালে রাজনীতি শুরু করি। কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি আমার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে আন্দোলনের সময় পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এখন আপনার বিষয়। আপনি বিবেচনা করবেন।”
শুনানির পরে আদালত গণফোরামের সাবেক এই নেতাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
সুলতান মনসুরের আইনজীবী তাইবুর রহমান তুহিন বলেন, “এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন সুলতান মনসুর। সম্প্রতি উচ্চ আদালত থেকে তিনি জামিন পান।
“জামিননামা কারাগানে পাঠানোর পর আজকের এ মামলাসহ কয়েকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।”
২০২৫ সালের ১৯ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলাটি করেন করেন বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবির।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসমাবেশ কর্মসূচি ছিল। তার আগে ৪ ডিসেম্বর ছাত্রদলের তরফে প্রচার কাজ করে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে এক দল লোক আবিরকে তুলে নিয়ে যায়। আসামিরা তাকে ‘গাড়িতে তুলে নিয়ে মারধর করেন’। এতে তিনি ‘বেঁহুশ হয়ে পড়েন’।
আবিরের অভিযোগ, এরপর তাকে হাজারীবাগের একটি ট্যানারির গুদামে ‘আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন আসামিরা’। বাবার কাছ থেকে ‘পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে’ পরদিন ৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আবির জানতে পারেন তারা ছিল ‘মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনী’।