নাটকের শুটিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ক্যামেরাসহ তার মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে গুরুতর আঘাত পান অভিনেত্রী। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রিয়ন্তী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ছিল তার জন্য ভীষণ ভীতিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও প্রতি অভিযোগ নেই তার।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিনেত্রী জানান, নাটকের একটি দৃশ্যে তাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হয়েছিল। এ সময় বেডটি টেনে একটি কক্ষে নেওয়া হচ্ছিল। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তার মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন। শুটিং চলাকালে হঠাৎ বেডটি ঝাঁকি খেলে ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ প্রিয়ন্তীর মুখের ওপর পড়ে যান চিত্রগ্রাহক।
ঘটনার পর কিছুক্ষণের জন্য কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন না বলে জানান প্রিয়ন্তী। এমনকি কথা বলতেও পারছিলেন না তিনি। তীব্র ব্যথায় কষ্ট পাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে এক্স-রে করানোর পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথানাশক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লেখেন, ‘গতকাল শুটিংয়ে আমার একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। সত্যি বলতে, অভিজ্ঞতাটা ছিল ভয়ংকর!’
নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তিনি আরও লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আরও অনেক বড় কিছু হতে পারত। আমার নাক ভাঙেনি, তবে অনেক ফুলে গেছে। ছবিতে জুম করলে হয়তো বুঝতে পারবেন।’
দুর্ঘটনার জন্য শুটিংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে দায়ী করছেন না প্রিয়ন্তী। তার মতে, সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি দুর্ঘটনা। তবে দুর্ঘটনাটি তার সঙ্গে ঘটেছে এবং সেই আঘাতের যন্ত্রণা তাকেই সহ্য করতে হচ্ছে।
আঘাতের যন্ত্রণা থাকলেও পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই অভিনেত্রী। আবারও শুটিংয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
শুটিংয়ে যুক্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রিয়ন্তী বলেন, বিপদ কখনো বলে আসে না। সবাই সতর্ক থাকার পরও কখন, কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তা আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ায় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।