যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তবে তার সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নরওয়ের নোবেল কমিটি ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেলজয়ী হিসেবে জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথাম নাভি পিল্লাইয়ের নাম ঘোষণা করেছে। আর বিজয়ী ঘোষণার পরপরই ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করেছেন ৮৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই দক্ষিণ আফ্রিকান আইনবিদ।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে করতালির জবাবে নাভি পিল্লাইকে বলতে শোনা যায়, 'আপনারা যদি আরেকটু বেশি করতালি দেন, তবে আমি হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নেব!'
এর প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক আইনজীবীর পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে পিল্লাইকে 'বিদ্বেষী' আখ্যা দিয়ে এই পুরস্কারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেহবাজ শরিফ লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখেছেন এবং তার হস্তক্ষেপে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধের কিনারা থেকে ফিরে এসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তাই তিনি আশা করেছিলেন, ট্রাম্প এবার সেটির স্বীকৃতি পাবেন।
তবে ভারতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এমন মধ্যস্থতার দাবি শুরু থেকেই নাকচ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির ভাষ্যমতে, ২০২৫ সালের মে মাসে কাশ্মীরে সংঘাতের পর পাকিস্তানের সরাসরি অনুরোধেই দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল; এতে কোনো তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা ছিল না।
নোবেল না পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তার নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা এবার কম হলেও পরোক্ষভাবে তিনি এটি আগেই পেয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের নোবেলজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে নিজের পদকটি উপহার দিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের দাবি, ওই বিজয়ী জানিয়েছিলেন ট্রাম্পের চেয়ে বেশি এই পুরস্কারের যোগ্য আর কেউ নেই। তবে নোবেল কমিটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নোবেল পুরস্কার কখনো অন্য কাউকে হস্তান্তর বা ভাগাভাগি করার সুযোগ নেই।
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নাভি পিল্লাইকে এবার এ পুরস্কার দেওয়া হয়। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োরগেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস অসলোতে এই ঘোষণা দেন। কমিটি জানায়, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) সাবেক এই বিচারক অতীতে নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের আইনজীবী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে পুরস্কারের ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা তুলে দেওয়া হবে।
নোবেল ফাউন্ডেশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি নিজেকে নিজে মনোনয়ন দিতে পারেন না। কেবল সরকারপ্রধান, সংসদ সদস্য, আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সাবেক নোবেলজয়ীরাই বৈধ মনোনয়ন পাঠাতে পারেন।
নরওয়েজিয়ান পার্লামেন্ট মনোনীত পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে সর্বসম্মত বা সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিজয়ী নির্ধারণ করে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.