1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ওমরাহ পালন করলেন কেয়া পায়েল ৩৪৬ রানে থামল বাংলাদেশ ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী ৫-৮ বছরে বার্ষিক ৬০ হাজার কোটি টাকা লাগবে: গভর্নর এবারও জুটল না নোবেল: ট্রাম্পের জেতার ‘আশা’ করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মক্কা-মদিনায় আক্রমণ হলে বাহিনী পাঠাবে ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা ট্রাম্পের আবুধাবি টেস্ট: সাড়ে তিনশ’র আগেই অলআউট বাংলাদেশ নিম্নমানের যাত্রীসেবায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দরের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আবধাবি টেস্ট: দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করছে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ

নিম্নমানের যাত্রীসেবায় ক্ষুণ্ন হচ্ছে ঢাকা বিমানবন্দরের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ Time View

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে এভিয়েশন বা বিমান চলাচল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশ। তবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্রমাগত সেবার ব্যর্থতা সেইসব উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে হুমকিতে ফেলছে। ব্যাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব, ট্রলির সংকট, লাগেজ চুরি, টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড় ও লম্বা লাইন প্রশ্ন তুলছে, ক্রমবর্ধমান যাত্রীসংখ্যার সাথে তাল মিলিয়ে বিমানবন্দরের কার্যক্রম চলতে পারছে কি না।

এসব ঘাটতির প্রতিফলন দেখা যায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক এভিয়েশন রিভিউ ও রেটিং সংস্থা স্কাইট্র্যাকস-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়নে। সেখানে বিমানবন্দরটিকে টু-স্টার রেটিং দেওয়া হয়েছে। স্কাইট্র্যাকসের প্রতিবেদনে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধার দুর্বল দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার ধীরগতির মতো বিষয়।

সমস্যাটি নিছক ভোগান্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অনেক দর্শনার্থীর জন্যই এই বিমানবন্দর বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা। ফলে এখানে নিম্নমানের সেবা তাদের মনে দেশের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে।

গত ১ অক্টোবর বিষয়টি ব্যাপকভাবে সামনে আসে। সেদিন ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ডেন্টিস্ট ডা. ওরাকাতুল জান্নাত তার ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে তার ফ্লাইট অবতরণ করে। কিন্তু একটি ট্রলির জন্য তাকে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। আর লাগেজ হাতে পান বেলা সাড়ে ১১টার দিকে—অর্থাৎ বিমান অবতরণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিওতে তিনি দীর্ঘ লাইন, বসার পর্যাপ্ত জায়গার অভাব এবং বয়স্ক যাত্রী ও শিশুদের কষ্টের কথাও বর্ণনা করেন।

তবে তার এই অভিজ্ঞতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মদিনা থেকে আসা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের ওমরাহ যাত্রীরা তাদের লাগেজ ও জমজমের পানির জন্য প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে এই বিলম্বের কারণে বিরোধী দলের চারজন সংসদ সদস্য বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান ও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এর জেরে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সমস্যা কেবল দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

সাবেক এয়ারলাইন কর্মকর্তা ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ টি এম নজরুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'একজন যাত্রী হয়তো উড়োজাহাজের ধরন বা ফ্লাইট নম্বর ভুলে যেতে পারেন। কিন্তু কোনো যাত্রীকে যদি লাগেজ পেতে বা একটি ট্রলি খুঁজতে অকারণে দীর্ঘ সময় পার করতে হয়, তবে সেই ভোগান্তি বাংলাদেশে পৌঁছানোর স্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে।'

তিনি আরও বলেন, যোগাযোগ সম্প্রসারণে বাংলাদেশ শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। তবে এই বিনিয়োগের পাশাপাশি যাত্রীদের ভালো অভিজ্ঞতার দিকেও সমানভাবে জোর দেওয়া উচিত।

বিমানবন্দরটি কি ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কাজ করছে?

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৬টি এয়ারলাইন্স প্রায় ১৪০ থেকে ১৬০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে। এসব ফ্লাইটে প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৩৬ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, বিশেষ করে ব্যস্ত (পিক) সময়ে সুষ্ঠু সেবা বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম নেই। সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশে আসা যাত্রীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের চাপ থাকে সর্বোচ্চ। এই ব্যস্ত সময়ে একইসাথে ১০-১২টি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারে, যার মাধ্যমে একসঙ্গে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ যাত্রী টার্মিনালে প্রবেশ করেন। এমন পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ থেকে ব্যাগেজ নামিয়ে যাত্রীদের হাতে পৌঁছে দিতে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

বিমানবন্দরটিতে যাত্রীদের জন্য মোট ৪ হাজার ১৯০টি ট্রলি রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৭টি ব্যবহারযোগ্য। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে আরও ৫০০ ট্রলির অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগীব টিবিএসকে বলেন, ব্যাগেজ সরবরাহে গতি আনতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও বেশি হেল্পার মোতায়েন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'ব্যাগেজ সরবরাহে দেরি হলে ট্রলি পুনরায় ব্যবহারের জন্য পেতেও বিলম্ব ঘটে। কারণ তখন ট্রলি প্রত্যাশিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে যাত্রীদের কাছে আটকে থাকে।'

ট্রলি যাতে দ্রুত আবার ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে ফিরে আসে, তা তদারকি করতে বিমানবন্দরে একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টিবিএসকে বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর তার প্রকৃত ধারণক্ষমতার বাইরে গিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কি না, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

শুধু রানওয়ে, এয়ারক্রাফট পার্কিং স্ট্যান্ড ও ফ্লাইটের ওঠানামা দিয়ে কোনো বিমানবন্দরের সক্ষমতা পুরোপুরি বোঝানো যায় না। কারণ একদিকে দেশে আসা যাত্রীদের ইমিগ্রেশন শেষ করে ব্যাগেজ সংগ্রহ করে টার্মিনাল থেকে বের হতে হয়; অন্যদিকে ঠিক একই সময়ে দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরাও টার্মিনালে প্রবেশ করেন। এমনও হতে পারে যে রানওয়েতে জায়গা ফাঁকা আছে, কিন্তু ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও টার্মিনালের অন্যান্য সুবিধা অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

তাই কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি না করেই এসব ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীরা অতিরিক্ত ফ্লাইটের চাপ সামলাতে পারবেন কি না, তা কর্তৃপক্ষকে মূল্যায়ন করতে হবে। তা না হলে একের পর এক বিলম্ব ঘটতে থাকবে, যা উড়োজাহাজের ফিরতি যাত্রায় (টার্নঅ্যারাউন্ড) বিঘ্ন ঘটাবে, কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলবে এবং যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখবে।

ওই বেবিচক কর্মকর্তা পিক সময়ের দিকে বিশেষ নজর দিয়ে পূর্ণাঙ্গ সক্ষমতা মূল্যায়নের আহ্বান জানান। এর আওতায় রানওয়ে, অ্যাপ্রন, টার্মিনাল, ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড সার্ভিসেস অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এয়ারলাইন্সগুলো অর্থ দিচ্ছে, কিন্তু সেবা অপ্রতুল

বর্তমান টার্মিনালে বিমানই একমাত্র গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার। তারা যাত্রী, বোর্ডিং, ব্যাগেজ ও কার্গো ব্যবস্থাপনা, উড়োজাহাজ সহায়তা এবং গ্রাউন্ড ইকুইপমেন্ট সেবা দিয়ে থাকে।

এয়ারলাইন্স অপারেটরস কমিটির তথ্যমতে, এয়ারলাইন্সগুলো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য প্রতিটি ফ্লাইটের বিপরীতে বিমানকে ২ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করে। এছাড়া কার্গো পরিবহনে প্রতি কেজির জন্য ০.০৭ ডলার দেওয়া হয়। বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সেবার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে অভিযোগ করে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমান এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের একজন কর্মকর্তা জানান, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মী বাড়েনি। যেসব এয়ারলাইন্স আগে দিনে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করত, তারা এখন চার থেকে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ফলে কর্মীদের ওপর চাপ বাড়ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রায় ১ হাজার ২০০ কর্মীর যে সংখ্যার কথা ব্যাপকভাবে বলা হয়, তা পুরো গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং জনবলকে উপস্থাপন করে না। কারণ যাত্রী কাউন্টার, ট্রানজিট ও অন্যান্য শাখা আলাদা। তা সত্ত্বেও, তিনি ধারণা অনুসারে, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনবলের ঘাটতি রয়েছে।

প্রায় ১৬৭ জন নতুন হেল্পার নিয়োগ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও ৮০ জনের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই কর্মকর্তা আশা করছেন, এই অতিরিক্ত কর্মীরা ব্যাগেজ সরবরাহের মান উন্নত করবে।

সরকার থার্ড টার্মিনালে দ্বিতীয় একটি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্য দিয়ে যাত্রী ব্যবস্থাপনায় সেখানে বিমানের একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান ঘটবে। এয়ারলাইন্সগুলো নিজেদের পছন্দমতো অপারেটর বেছে নিতে পারবে। তবে কার্গো ব্যবস্থাপনার একক অধিকার বিমানের হাতেই থাকবে।

মেনজিস এভিয়েশন, চেলেবি এভিয়েশন, ডিনাটা ও সুইসপোর্ট-এর মতো বৈশ্বিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটরগুলো এ বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

প্রতিযোগিতার ফলে দক্ষতা ও যাত্রীসেবার মান বাড়তে পারে, তবে চ্যালেঞ্জও ক্রমশ বাড়ছে। ২০২৫ সালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১ কোটি ২৭ লাখ ২০ হাজার যাত্রী হ্যান্ডল করেছে, যা ২০২৪ সালে ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ এবং ২০২৩ সালে ১ কোটি ১৭ লাখ। গত বছরের মোট যাত্রীর মধ্যে আন্তর্জাতিক যাত্রীই ছিলেন ১ কোটি ৩ লাখ ১০ হাজার।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ