রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএর সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ডিএনএর মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে হত্যাকাণ্ডের সময় ওই দুজন ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে দাবি করেছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তদন্তে এখন পর্যন্ত তাঁদের বাইরে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর মহানগর পুলিশের ডিবির উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যে তদন্ত করেছি, দুজনের বাইরে কাউকে পাইনি। আর আজকের যে ডিএনএ রিপোর্ট, এটা আমাদের আগের অবস্থানকে প্রতিষ্ঠিত করল।’
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় আটক দুই ব্যক্তি সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের ডিএনএর হুবহু মিল পাওয়া গেছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ঘটনার সময় তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।’
ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে পাওয়া প্রমাণকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ফলাফলে ঘটনার সময় ওই দুজনের বাড়িতে উপস্থিত থাকার বিষয়ে আর সন্দেহের অবকাশ নেই।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির দল আলামত সংগ্রহ করেছিল। পরে আদালতের নির্দেশে ৩০ আগস্ট প্রথম দফায় এবং ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় এসব আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়। সিআইডি জানায়, আলামতগুলোতে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপর গত ২০ ও ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে ঢাকায় নিয়ে তাঁদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বৃহস্পতিবার সেই পরীক্ষার ফল পাওয়া গেছে।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তাঁদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গেও ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের মিল রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুরের বিচি, কামড় দেওয়া শসার অংশ ও সিগারেটের ফিল্টারসহ কয়েকটি আলামতে পুরুষের ডিএনএর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। পরে এসব আলামতের নমুনার সঙ্গে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হয়।
এর আগে ঘটনাস্থল থেকে ৩৫টির বেশি আলামত সংগ্রহ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ফল কাটার চাকু, ইয়াবা সেবনের ফয়েল, সিগারেটের শেষাংশ, নানরুটি, শসা, খেজুর, বেসিনের দাগ এবং নিহত শিশুর খাতায় পাওয়া একটি লেখাসহ বিভিন্ন আলামত ছিল। এসব আলামত কয়েক দফায় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ওই বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। এ সময় তাঁরা খেজুর ও শসা খেয়েছিলেন এবং সিগারেট পান করেছিলেন। পরে এসব আলামত থেকে ডিএনএ পরীক্ষার নমুনা পাওয়া যায়।
প্রসঙ্গত, গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।