মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব পুঁজিবাজারে এই ধস নামার পেছনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও করপোরেট ঋণের বোঝা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া শঙ্কা প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
মার্কিন শেয়ারবাজারে প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ এবং প্রযুক্তি খাতনির্ভর নাসডাক সূচক প্রায় ১.৩ শতাংশ কমেছে। এশিয়ার বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর উপার্জন সন্তোষজনক হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম ছিল সবচেয়ে নিম্নমুখী।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং মার্কিন মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের বাজারে তীব্র উদ্বেলতা দেখা দেয় এবং দিনশেষে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে লেনদেন শেষ হয়।
আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪.০৮ ডলার (৪.১ শতাংশ) বেড়ে ১০৪.২৮ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ইউরোপীয় পুঁজিবাজারগুলোতেও পতনের ধারা অব্যাহত ছিল। সরকারি ঋণ ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে ইউরোপের সার্বিক সূচক ‘স্টকস ৬০০’ ০.৭৫ শতাংশ এবং ফ্রান্সের ‘ক্যাক ৪০’ সূচক ০.৫ শতাংশ কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে, যা শেয়ারবাজারকে আরও অস্থির করে তুলবে।