প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের শেষকৃত্য যখন পুনের ফার্মহাউসে সম্পন্ন হচ্ছিল, ঠিক তখনই অভিনেতাকে নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে নেটপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করলেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। প্রথমে বিষয়টিকে ‘ইভিল ডেড’ বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর এবার সরাসরি সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন সাবেক এই মিস ইন্ডিয়া ইউনিভার্স। লখনউতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার সময় নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর পান তনুশ্রী। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে তিনি বলেন, ‘আজ আমার পুরো দিনটি একটি ইভেন্টের জন্য নির্ধারিত। এখন এসব নিয়ে আমার নতুন করে কী-ই বা বলার থাকতে পারে? যে চলে গেছে, সে তো চলেই গেছে।’ আরও পড়ুন নানার মৃত্যুতে তনুশ্রী বললেন ‘ইভিল ডেডের পেছনে ছুটবে মিডিয়া’ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ তবে এরপরেই ভারতের #মিটু আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটানো এই অভিনেত্রী নিজের গত ৫ বছরের কষ্টের কথা উগরে দেন। তনুশ্রী দাবি করেন, ‘অভিযোগ তোলার পর থেকে গত পাঁচটা বছর আমাকে চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। একজন ভুক্তভোগী হিসেবে আমার ওপর মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য কী পরিমাণ চাপ দেওয়া হয়েছিল তা কেবল আমিই জানি। আমাকে কোটি কোটি টাকার ঘুষ সাধা হয়েছিল, কিন্তু আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি।’ আরও পড়ুন পুনের ফার্মহাউসে শেষকৃত্য সম্পন্ন অভিনেতা নানা পাটেকরের ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ২০১৯ সালে পুলিশ নানা পাটেকরকে বেকসুর খালাস দেওয়ার বিষয়টিকে সম্পূর্ণ স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলে দাবি করেছেন তনুশ্রী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এমন নয় যে আমাদের কাছে প্রমাণ ছিল না। যে দিন আদালতে আমার প্রধান সাক্ষীর এফিডেভিট জমা দেওয়ার কথা ছিল, ঠিক সেই দিনই হুট করে মামলাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সাক্ষীকে রাজি করাতেই আমাদের ৫ বছর লেগেছিল, কারণ তাকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। নানা পাটেকর একজন চূড়ান্ত অহংকারী মানুষ ছিলেন। সে কোনোভাবেই থামছিল না, ওই শয়তানটা আমাকে ক্রমাগত মানসিক যন্ত্রণা দিয়ে যাচ্ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর নিজেই এসে ওর জীবনটা শেষ করে দিলেন।’ মৃত্যুর পর যেখানে গোটা বলিউড ও ভক্তকুল নানা পাটেকরের স্মরণে কাঁদছে, সেখানে তনুশ্রী দত্তর এমন তীব্র আক্রোশমূলক ও বিতর্কিত বক্তব্য সমাজমাধ্যমে নতুন করে এক চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।