চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন
ঠিকানা বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেড ৩২, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, লেভেল – ৭, ঢাকা-১২১২ টেলিফোনঃ ৫৮৮১৭০০১-৫ ফ্যাক্সঃ ৫৮৮১৭৫৪১ ই-মেইলঃ [email protected]
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এ লক্ষ্যে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর একটি হোটেলে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও এয়ারবাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সরকার চায় চুক্তিভুক্ত এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পন্ন হোক।
চুক্তি অনুযায়ী বহরে যুক্ত হবে চারটি ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ জেট। ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শীর্ষক চুক্তি সই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও সাউথ এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জার্গেন ওয়েস্টারমেয়ার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির উপস্থিত থাকবেন।
সরকার মূলত উড়োজাহাজ সরবরাহের সময়সূচি এগিয়ে আনার ওপর জোর দিচ্ছে। পূর্বে সরবরাহের সময় ২০৩৩ থেকে ২০৩৭ সাল বলা হলেও গতকাল মঙ্গলবার জার্মান রাষ্ট্রদূত রুডিগার লটজের নেতৃত্বাধীন লুফথানসার একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বিমানমন্ত্রী জানান, সরকার ২০৩০ সালের আগেই বহরে এগুলো যুক্ত করতে চায়।
দেশকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কারখানা স্থাপন এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে লুফথানসার বিনিয়োগ ও যৌথ কাজের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৭ সাল থেকে কার্গো পরিবহনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরোপিত ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ সতর্কতা তুলে নিতে জার্মানির কারিগরি ও নীতিগত সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
উল্লেখ্য, এয়ারবাসের পাশাপাশি চলতি বছর মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান। গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়, যার সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩১ সাল থেকে।
বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে দুটি প্রায় অচল এবং বাকি ১৭টিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অবসরে যাবে। তাৎক্ষণিক ঘাটতি মেটাতে ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়ায় (লিজ) নেওয়ার চেষ্টা করছে সংস্থাটি। তবে এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের নতুন চুক্তিভিত্তিক ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত হলে ভবিষ্যতে বিমানের মোট বহর ৫০টি ছাড়িয়ে যাবে।