রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসনকে উস্কে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুনি কবির।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের দেশ মিয়ানমারে দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার তাগিদ দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশ বিষয়ক অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) চেয়ারপারসন আফসানা বেগম এমপির নেতৃত্বে মঙ্গলবার একটি প্রতিনিধিদল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের সদস্য শওকত আদম এমপি এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য কুরবান হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাদের মধ্যে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে তা ব্যাপক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং অবৈধ অভিবাসনকে উস্কে দিতে পারে। তিনি বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট এখন আর কেবল মানবিক উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলের। বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা তাদের সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের নিজ জন্মভূমিতে টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সোচ্চার থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
এদিকে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে এপিপিজির ধারাবাহিক আগ্রহের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ ও সংস্কার উদ্যোগে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী দেশের অগ্রগতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সঙ্গে আরও সম্পৃক্ততা বাড়াতে প্রতিনিধিদের সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা ও বিনিময়, গণতান্ত্রিক সুসংহতকরণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অভিবাসন, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং মানবাধিকার প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা ইস্যুতে পারস্পরিক মতামত বিনিময় করে এবং দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষী ফোরামের মাধ্যমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মস্তিষ্কের অন্ধকারে আলোর ঝলক: ২০২৬ সালের চিকিৎসাশাস্ত্রের নোবেল
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে কে?
রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ: দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমীকরণ ও বৈশ্বিক বাস্তবতা