রংপুরে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবে বক্তারা বলেছেন, কবীর ও লালনের মরমী সংগীত দেশ ও কালের সীমানা ছাড়িয়ে সার্বজনীন আবেদন তৈরি করেছে। আধ্যাত্মিক বিচারে এই সংগীত মহাজাগতিক ভাবসংগীতে পরিণত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত আট বিভাগব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের ষষ্ঠ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব উদ্বোধনকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘অতুলনীয় অবদান ও সার্বজনীন আবেদনের কারণে কবীর-লালনের সুরবাণী দেশকালের গণ্ডি পেরিয়ে আজ বিশ্বসংগীতই নয় শুধু, আধ্যাত্মিক বিচারে তা মহাজাগতিক ভাবসংগীত।’ তিনি বলেন, এই উৎসবের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ লালনের মাধ্যমে কবীরকে জানতে পারবে। একইভাবে অন্য দেশের মানুষও কবীরের সঙ্গে লালনকে সমান্তরালে অনুভব করতে পারবে। কবীর ও লালনের ভাবাদর্শ মানুষকে সত্য ও সুপথের দিকে আহ্বান করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দর্শনের বহুমাত্রিক চর্চা ও বিস্তার সময়ের দাবি। লালন বিশ্বসংঘের আয়োজনকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ উল্লেখ করে প্রতিবছর এমন সার্বজনীন উৎসব আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘কবীর-লালনকে নিয়ে মানুষের মনে অসীম কৌতূহল ও আগ্রহ রয়েছে। তাদের জাগতিক ও পারলৌকিক জীবন রহস্যের গভীর সাদৃশ্য ও সংগতির কারণে এ বিষয়ে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান, গবেষণা ও তুলনামূলক অধ্যয়নের প্রয়োজন রয়েছে।’ বিশেষ অতিথি ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মাহবুবুর রশীদ। কবীর-লালনের দর্শন নিয়ে আলোচনা করেন মাওলানা আবদুল জলিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লালন বিশ্বসংঘের প্রধান নির্বাহী ও কবীর-লালন গবেষক আবদেল মান্নান। উৎসবের দ্বিতীয় পর্বে ‘কবীর থেকে লালন: চিরন্তন প্রেমের এক অক্ষয় সেতুবন্ধন’ শীর্ষক সংগীতালেখ্য পরিবেশন করা হয়। এতে কবীর ও লালনের ২০টি কালাম পরিবেশন করেন কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের শিল্পীরা। লালন বিশ্বসংঘ জানিয়েছে, ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোভাব বার্ষিকী ও দুর্গাপূজার কারণে দুই সপ্তাহ বিরতির পর উৎসবের সপ্তম আয়োজন হবে আগামী ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। এরপর আগামী ৩০ অক্টোবর সিলেট বিভাগের শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে সমাপনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।