নেশনস লিগের একটি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ না পাওয়ায় পর্তুগাল ছাড়ায় ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে এসে দাঁড়ালেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। এই প্লে-মেকার ব্রুনো বলেছেন, রোনালদো দেশটির সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল আইকন হিসেবেই বিবেচিত হবেন।
চলমান নেশনস লিগে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে রাখা হবে না, কোচ জর্জ জেসুসের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর রোনালদো দল ছেড়ে চলে যান। উল্লেখ্য, তাকে ছাড়াই পর্তুগাল ম্যাচটি ৪-২ ব্যবধানে জিতেছিল।রিয়েল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক এই ফরোয়ার্ড জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা। তবে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা খেলোয়াড় হওয়া সত্ত্বেও, দল ছেড়ে চলে আসার ঘটনায় জাতীয় দলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সাংবাদিকদের ফার্নান্দেস বলেন, ক্রিশ্চিয়ানোর বিষয়ে বলতে গেলে, তার সাথে আমার কথা হয়েছে। আমি তাকে যা বলেছিলাম এবং এখানেও যা পুনর্ব্যক্ত করছি তা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যা-ই ঘটুক না কেন, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কখনোই আমাদের জাতীয় দল, আমাদের ফুটবল এবং আমাদের দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতীক হিসেবে তার অবস্থান হারাবেন না। কারণ পর্তুগাল তো বটেই, পুরো বিশ্বজুড়েই তিনি অসামান্য অবদান রেখেছেন।
রোনালদোর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পর্তুগালের ভক্তদের মধ্যে মতভেদ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এমন অস্থির পরিস্থিতির মাঝে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার ফার্নান্দেস সবার মধ্যে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। ফার্নান্দেস বলেন, সর্বকালের সেরাদের তালিকায় তো বটেই, বরং সব পর্তুগিজ মানুষের হৃদয়েও তার একটি বিশেষ ও স্থায়ী জায়গা রয়েছে। আর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, আমাদের উচিত বিভেদ সৃষ্টি করা বন্ধ করা।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় দলে কোনো বিভাজন নেই; এটি একটি অবিভক্ত দল এবং ভবিষ্যতেও এমনই থাকবে বাইরে থেকে যতই নানা কথা বা গুঞ্জন আসুক না কেন। আমরা এই বিতর্কের বাইরেই আছি। তবে আমার অনুরোধ, দেশ যেন কোনো বিভাজনের পথে না যায় বা কাউকে বেছে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে না পড়ে; বরং সব পক্ষের প্রতিই যেন সম্মান দেখানো হয়। একই সঙ্গে এটাও মনে রাখা জরুরি, রোনালদো আমাদের জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় আইকন এবং তিনি সবার শ্রদ্ধার পাত্র। তাকে কে বেশি পছন্দ করেন আর কে কম, সেটা এখানে কোনো বিষয় নয়।
রোনালদোকে শুরুর একাদশে না রেখেই নরওয়ে ও ডেনমার্কের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে জয় পেয়েছিল পর্তুগাল। রবিবার (৪ অক্টোবর) তারা আবারও নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। কোচ জেসুস রোনালদোকে ‘পর্তুগালের প্রতীক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি জানান, পোর্তোতে রবিবারের ম্যাচের পরই তাকে নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যাবে।
৭২ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, আমি এখন দলের ওপর এবং প্রতিপক্ষ নরওয়ের ওপরই মনোযোগ দিচ্ছি, যারা ইউরোপের সেরা পাঁচটি দলের একটি। এই মুহূর্তে সেটাই আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয়।