মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড্রেজারের পাইপলাইন উচ্ছেদ করার পরও রাতের আঁধারে ফের ড্রেজার চালু করে ভরাটের কাজ করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাতের বেলায় ড্রেজারের বিকট শব্দে ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুরের দিকে ষোলঘর ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা ভরাট কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপলাইন উচ্ছেদ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন রাতেই উপজেলার ষোলঘর-বীরতারা সড়কের পূর্ব দেউলভোগ এলাকার মামা হালিমের পাশে ভরাটের কাজে ড্রেজারটি পুনরায় চালু করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ষোলঘর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি মনির হোসেনের নেতৃত্বে পূর্ব খৈয়াগাঁও কবরস্থানের পাশে প্রায় তিন একর কৃষিজমি ভরাট করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ষোলঘর-বীরতারা পাকা সড়কের মামা হালিমের পাশে বিপুল পরিমাণ বালু স্তূপ করে রাখা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ড্রাম ট্রাকে করে বালু এনে ওই স্থান থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে পূর্ব খৈয়াগাঁও কবরস্থানের পাশে থাকা জমিতে ফেলা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে ষোলঘর তহশিলদার রফিকুল ইসলাম ড্রেজারের কয়েকটি পাইপ উচ্ছেদ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর রাতেই পাইপ পরিবর্তন করে আবার ভরাটের কাজ শুরু করা হয়।
এদিকে ড্রেজার মেশিনের বিকট শব্দে আশপাশের বাড়িঘরে বসবাসকারী মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি রাতে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বালুবাহী ড্রাম ট্রাকগুলোতে অতিরিক্ত বালু বহন করায় পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত এসব ভারী যান চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়েও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ড্রেজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও কীভাবে সেটি পুনরায় চালু করা হলো—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে যুবদল নেতা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের দাবি, ষোলঘর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি পনির হোসেনের আপন ছোট ভাই ড্রেজার ব্যবসায়ী মনির হোসেন। তিনি একই ওয়ার্ডের যুবদলের সভাপতি হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এলাকার অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলে স্থানীয়দের দাবি।
এ বিষয়ে যুবদল নেতা মনির হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে শ্রীনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন ধরেননি। ফলে এ বিষয়ে প্রশাসনের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমি ভরাটের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাতের বেলায় ড্রেজার চালানো বন্ধ এবং বালুবাহী ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।