বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টায় ডিজেলের মজুদ ছেড়ে দেওয়ার একটি ফরাসি প্রস্তাব নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আলোচনা করেছে।
জার্মানির একটি গ্যাস স্টেশনে গাড়িতে তেল ভরা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র চাপের মুখে বিশ্বের জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে ইউরোপীয় দেশগুলো।
ডিজেলের জরুরি মজুত না ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম কমাতে মরিয়া হোয়াইট হাউজ।
ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ করে জার্মানি ও ফ্রান্সকে তাদের ডিজেলের জরুরি মজুত উন্মুক্ত করতে চাপ দিয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, মজুত উন্মুক্ত না করলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে দেশ দুটি।
এরই প্রতিক্রিয়ায় জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম কমানোর চেষ্টায় ডিজেলের মজুদ ছেড়ে দেওয়ার একটি ফরাসি প্রস্তাব নিয়ে শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো আলোচনা করেছে।
আলোচনা সম্পর্কে বিশদভাবে জানেন এমন দুইজন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন।
শুক্রবার এক ফোনালাপে ইইউ দেশগুলো ফ্রান্সের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউরোপীয় দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়বে।
ফ্রান্সের অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও সাড়া দেয়নি।
এক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্স ও জার্মানিসহ ইউরোপের বড় বড় দেশগুলোকে ২০ দিনের মধ্যে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশটিতে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক পদক্ষেপ হিসাবে ট্রাম্প সম্ভাব্য রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কথা বিবেচনা করছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ এবং ইউক্রেইন যুদ্ধে অনেক রুশ শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী ডিজেল সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীন মজুদ বাড়াতে চীনা শোধনাগারগুলোও অক্টোবরের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো শুক্রবারের ফোন কলে আলোচনা করেছে যে, ডিজেলের মজুদ আরও ছেড়ে দেওয়ার যে কোনও চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত।
জি৭ দেশগুলোর নেতারা পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার বিকালে ফোনকল করতে পারেন। বর্তমানে ফ্রান্স জি৭-এর সভাপতিত্ব করছে।
৩২ সদস্যের আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা গত মার্চ মাসে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় তাদের কৌশলগত তেল মজুত থেকে সম্মিলিতভাবে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে একমত হয়েছিল, যা এই সংস্থার ইতিহাসে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় তেল ছাড়ার ঘটনা।
রাজনৈতিক অস্থিরতার ‘ভরকেন্দ্র’ ও বিএনপির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ
নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ?