1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
সরকারি চাকুরেদের বেতন বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে: কেন্দ্রীয় ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে মানিক-জিসান বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের নতুন কোচ ডেভিড হেম্প প্লাগ অ্যান্ড প্লের সঙ্গে আলোচনা: ‘৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ এশিয়ান গেমস গলফ: সাদামাটা সিদ্দিকুর, বাদল ও জামাল ঢাকা উত্তর বিএনপি-যুবদল ও মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি ও যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত, ১৪ নেতা বহিষ্কার ৬৪ জেলায় পুষ্টিবিদের অস্থায়ী ৬৪ পদ সংরক্ষণের অনুমোদন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন অব্যাহত ৪৯তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ৬১১ জন

প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইয়র্ক সফর বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে: মাহদী আমিন

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ Time View

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউ ইয়র্ক সফর বিশ্বে বাংলাদেশের ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা উজ্জ্বল’ করেছে বলে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

বুধবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘদিন পর জনগণের রায়ে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রধান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এটা গণতন্ত্রের একটা বিশাল বলিষ্ঠ পদচারণা ছিল এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

‘‘আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে তিনি অটুট রেখেছেন, সবচাইতে বেশি সুরক্ষা দিয়েছেন এবং বিশ্ব দরবারে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাধ্যমে।”

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান প্রথমবার জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে যান। ‍তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। অধিবেশনের সাইডলাইনে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এই সফর সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে এদিন বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কবরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন প্রতিটি দেশের সাথে আমরা অংশীদারত্ব চাই, বিনিয়োগ চাই, বাণিজ্য চাই, যার মাধ্যমে আমরা স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে পারব, স্বাবলম্বীতা নিশ্চিত করতে পারব। প্রতিটি মানুষের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারব ইনশাআল্লাহ।

‘‘বৈশ্বিক কূটনীতিতে এটি আমাদের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার একটা দৃঢ় প্রত্যয় এবং বিশ্বাস করি সমতা ও ন্যায় বিচারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ একটা ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের হাত ধরে শুধু বাংলাদেশের ভেতরে না বিশ্বে শান্তি এবং সমৃদ্ধি রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। “

তিনি বলেন, ‘‘আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় (জাতিসংঘে) বাংলাদেশ কীভাবে আত্মবিশ্বাসী ছিল।

‘‘আমাদের যে আত্মমর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপরিচয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার প্রতিটি পরতে পরতে ছিল বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।”

‘প্রধানমন্ত্রীর বার্তা আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত হয়েছে’

এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে উনি (তারেক রহমান) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার বার্তা দিয়েছেন এবং যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে আজকে রাষ্ট্র পরিচালনা বিএনপি করছে কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে? সমস্যার সমাধান হবে স্বনির্ভর, আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে?

“জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা হবে সেটার জন্য উনি দেশের অভ্যন্তরীণ সকল পরিকল্পনা প্রোগ্রাম এবং পলিসিস তুলে ধরেছেন। একই সাথে একটি গণতান্ত্রিক শান্তিকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে সেটিও সুস্পষ্ট রূপরেখা তিনি দিয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সেটি গৃহীত হয়েছে। আমরা দেখেছি যারা বিশ্বনেতা রয়েছেন শুধু বাংলাদেশ বা তার আশপাশের দেশগুলো থেকে না এবং উনি ১১টা বৈঠক চার দিনে করেছেন সেখানে দেখবেন বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, বিভিন্ন জিওগ্রাফি থেকে রিপ্রেজেন্টেশন রয়েছে।

“এর বাইরেও যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ইনভাইটেশনে গিয়েছিলেন সেখানে অনেক দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন, যখন জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণে গিয়েছিলেন সেখানেও বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন। উনাদের সাথে খুব আন্তরিক হৃদ্রতাপূর্ণ সম্পর্ক হয়েছে।”

তিনি বলেন, ‘‘এমন একজন প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ক্ষমতার একমাত্র উৎস জনগণ। সুতরাং সে কারণেই সকল বিশ্বনেতাদের কাছে উনি সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছেন, মর্যাদা পেয়েছেন।

‘‘উনার সম্মান আর মর্যাদা মানে বাংলাদেশের আত্মসম্মান, বাংলাদেশের আত্মমর্যাদা। এটি বিগত সময়ের চাইতে একটা ভিন্নমাতৃক অবস্থানে বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছে।”

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ভাষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকট, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতায় বৃদ্ধিতে উপকুলীয় দেশসমূহের শঙ্কা, জলবায়ু কার্য্ক্রম ও ন্যায্য রূপান্তর এবং ‘পরিবর্তন ও অঙ্গীকার থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধ যোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্য বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীর সেবার সমন্বয়’ শীর্ষক চারটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন।

পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল খালিদ আল হামাদ আল সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমে, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং সংযুক্ত আরব আমীরাতের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান বিন আবদুল্লাহ আল সৌদ এবং সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া মালমের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জিপি মরগ্যান আয়োজিত ওয়াল স্টিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রাতঃরাশ বৈঠক করেন তিনি।

বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সন্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের প্রাত:রাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমান।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাই কমিশনার বারহাম ছালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক, ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জায়েদ রায়াদ আল হুসেইন এবং গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যান এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উনার সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমান এই চার দিন যথেষ্ট ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি আটটি কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনটিতে বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের উইমেন লিডার্সের যে প্ল্যাটফর্ম সেখানে তিনি গিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া নারী নেতৃবৃন্দের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্যাশা তিনি তুলে ধরেছিলেন।

‘‘ওয়ার্ল্ডস ফাস্ট স্পাউসেস ডায়লগ অর্থাৎ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যারা সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছেন উনাদের সহধর্মিনীদের একটা প্রোগ্রামে তিনি গিয়েছিলেন এবং মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পলিসি এবং উনার ভিশন তুলে ধরেছিলেন। যেটি অত্যন্ত সমাদৃত হয়েছে। মিড ওয়াইফারি ইভেন্ট যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও এটেন্ড করেছিলেন এবং যার আয়োজক ছিল বাংলাদেশ। সেখানে গিয়ে তিনি নিজে উনার নিজের অভিজ্ঞতা একজন চিকিৎসক হিসেবে এবং পলিসি মেকিং এর জায়গা থেকে বাংলাদেশের যে উদ্যোগগুলো রয়েছে সেগুলো বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছেন। “

তিনি বলেন, ‘‘ইউএস প্রেসিডেন্টের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের স্ত্রীদের সঙ্গে উনার মতবিনিময় হয়। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের যে ব্রেকফাস্ট ইভেন্ট ছিল সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ উনি এটেন্ড করেছিলেন।”

‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্ব মঞ্চে ছড়িয়ে গেছে’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবার যে বক্তব্য দিয়েছেন এটি শুধু একটি রুটিন বক্তব্য ছিল না বরং উনার বক্তব্যের প্রত্যেকটা কথা সেটি তিনি বিশ্ব মঞ্চে ছড়িয়ে দিয়েছেন, বিশ্ব পরিসরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। প্রত্যেকটা বিশ্বের যারা যারা জাতিসংঘের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রত্যেকের কাছেই সে বক্তব্যটা গেছে। এটাই আমরা মনে করি একটি বড় অর্জন।

‘‘শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৩০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছে যাদের সঙ্গে মূল বক্তব্য ছাড়া এটি না বরং উনার সফরসঙ্গী যারা ছিলেন তারাও কমপক্ষে ৫০টি ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছেন, নানা ইস্যু কথাবার্তা বলেছেন। সুতরাং আপনারা বুঝতে পারতে পেরেছেন যে এই অল্প সময়ের মধ্যে এতগুলো ইভেন্টে যে গিয়েছেন এগুলো সফলভাবে গিয়েছেন।”

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ