চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন
ঠিকানা বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেড ৩২, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, লেভেল – ৭, ঢাকা-১২১২ টেলিফোনঃ ৫৮৮১৭০০১-৫ ফ্যাক্সঃ ৫৮৮১৭৫৪১ ই-মেইলঃ [email protected]
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্য দেশ ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাদের অভিনন্দনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর পাশাপাশি ইইউর মধ্যকার সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ও ইউরোপের অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ লাভ করেছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইইউ এবং এর সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতা ও অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ আরও সম্প্রসারণ এবং আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সমান সুযোগ তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূতরা। বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারা।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। পাশাপাশি মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে ইইউর আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়েও আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখতে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।