1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
অর্থবছরের দুই মাসে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ ৬৯.৯ কোটি ডলার, ছাড় হয়েছে ২৯.৫ কোটি ডলার বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ আজ যেমন থাকবে ঢাকার আবহাওয়া লক্ষ্মীপুরে ৫ ঘণ্টার সাঁড়াশি অভিযানে ২৪৪ কিশোর গ্যাং সদস্য আটক রোনালদোকে ছাড়াই হলান্ডের নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চায় বাংলাদেশ ৩১ বছর পূর্তি উদযাপন করল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক কোহলি-গিলের জোড়া সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির ২য় সভা ঘরোয়া ক্রিকেট আকর্ষণীয় করতে বিসিবির চমক ‘ডি থ্রি’ ট্রফি

বাংলাদেশে অল্প বয়সে আকস্মিক মৃত্যুর প্রধান পাঁচ কারণ

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৮ Time View

বাংলাদেশে তুলনামূলক কম বয়সে মানুষের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই সামনে আসছে। কর্মস্থলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু, বাড়িতে ফেরার পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু—এমন ঘটনা এখন আর বিরল নয়। এর পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ।

কিছুদিন আগে এক দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্তব্যরত অবস্থায় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন মুকসেমুল হাকিম। তখন বিষয়টি বুঝতে পারেননি তিনি। রাতে বাসায় ফেরার পর অসুস্থ বোধ করলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই ৪২ বছর বয়সি হাকিমের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার পরিবারের সদস্যদের জানান, দুপুরেই একবার তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্বজনদের হাকিম জানিয়েছিলেন, দুপুর ১২টার দিকে অফিসে তার শরীর খুব খারাপ লাগছিল। ঘাড় ও হাত-পায়ে ব্যথা, বমিভাব এবং মাথা ঝিমঝিম করার মতো উপসর্গও দেখা দিয়েছিল। এর আগে তার বড় কোনো অসুস্থতা ছিল না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর বড় একটি অংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়। স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতার মতো রোগ এতে বড় ভূমিকা রাখে।

২০২৫ সালের ডব্লিউএইচও বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, অসংক্রামক রোগ দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এর অর্ধেকের বেশি মৃত্যু অকালমৃত্যু।

নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ বা এনসিডিকে অসংক্রামক রোগ বলা হয়। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি রোগ হিসেবেও পরিচিত। জিনগত, শারীরিক, পরিবেশগত ও আচরণগত বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত প্রভাবে এসব রোগ হতে পারে।

বয়স, অঞ্চল বা দেশভেদে এই রোগের ঝুঁকি আলাদা নয়। সব বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এর মধ্যে প্রধান হলো হৃদরোগ ও স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ক্যান্সার ও কিডনি জটিলতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ বছর বয়সের আগেই অসংক্রামক রোগে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব অকালমৃত্যুর প্রায় ৮২ শতাংশ ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশেও কর্মস্থলে বা অন্য কোথাও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা শোনা যাচ্ছে। পরে চিকিৎসকেরা জানান, ওই ব্যক্তি হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য কোনো অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত ছিলেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সি দেড় কোটি মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যান।

আইইডিসিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ বা হৃদ্‌রোগ, বিশেষ করে করোনারি আর্টারি ডিজিজ ধীরে ধীরে মহামারির রূপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ ও হার্ট ফেইলিউরের ঘটনাও বাড়ছে।

হৃদযন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করার জন্য হার্টে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে রক্ত ঠিকমতো পৌঁছাতে পারে না। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের মাংসপেশিতে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। তখনই হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

হার্ট অ্যাটাকের জন্য আগে থেকেই কোনো রোগ থাকা জরুরি নয়। আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মানুষও এতে আক্রান্ত হতে পারেন।

হার্ট অ্যাটাকের প্রধান উপসর্গ বুকের মাঝখানে ব্যথা। চিকিৎসকেরা একে ‘সেন্ট্রাল চেস্ট পেইন’ বলেন। এ ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। পরে তা বাম হাত ও ঘাড়ের দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চোয়াল ও পিঠে ব্যথাও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে। নারীদের মধ্যে এ ধরনের উপসর্গ বেশি দেখা যায়। এ ছাড়া পেটে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব ও বমিও হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ হতে পারে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

হৃদরোগের পর স্ট্রোকও মৃত্যুর বড় কারণ। অনেকেই স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাককে একই রোগ মনে করেন। কিন্তু দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।

স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কে আঘাত করে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখন স্ট্রোক হতে পারে।

সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সি মানুষের স্ট্রোকের ঝুঁকি বেশি। তবে এখন তরুণ এমনকি শিশুরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্ট্রোকের ধরনও ভিন্ন। এর মধ্যে রয়েছে মাইল্ড স্ট্রোক, ইসকেমিক স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোন অংশে এবং কতটা জায়গাজুড়ে স্ট্রোক হয়েছে, তার ওপর ক্ষতির মাত্রা নির্ভর করে।

স্ট্রোকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে রোগীকে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। চিকিৎসকেরা বলছেন, রোগী যত দ্রুত চিকিৎসা পাবেন, ক্ষতির আশঙ্কা তত কমবে।

– আচমকা হাত, পা বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া

– কথা বলতে অসুবিধা হওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া

– জিহ্বা অসাড় হয়ে যাওয়া বা মুখ বেঁকে যাওয়া

– নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যাওয়া বা জ্ঞান হারানো

বাংলাদেশে সব বয়সি মানুষের মধ্যে ডায়াবেটিসের হার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখের বেশি।

মোট রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে অষ্টম স্থানে রয়েছে। আইডিএফের অনুমান, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে উঠে আসতে পারে। তখন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২ কোটি ২৩ লাখে পৌঁছাতে পারে।

আইডিএফ বলছে, বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ মানুষ জানেনই না যে তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। অর্থাৎ তারা এখনো রোগ নির্ণয়ের বাইরে রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ২০২২ সালে দেশের আটটি বিভাগে একটি গবেষণা করে। এতে দেখা যায়, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি প্রতি ১০০ তরুণ-তরুণীর মধ্যে সাতজনেরও ডায়াবেটিস রয়েছে। পুরুষের তুলনায় তরুণ নারীরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলেও গবেষণায় উঠে আসে।

অতিরিক্ত ওজন, স্থূলতা ও উচ্চ রক্তচাপ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ