1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও ৯ জনের মৃত্যু কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহ, ভিডিও ভাইরাল আন্তদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চায় সিঙ্গাপুর এগিয়ে গিয়েও জয় পেল না বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সিঙ্গাপুরের বিদায়ী দূতের সাক্ষাৎ ব্যাংককে কমছে বন্যার পানি ইউনানের সঙ্গে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশের একগুচ্ছ প্রস্তাব জমি নিয়ে বিরোধে স্টুডিও ভাঙচুর, ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সালমান মুক্তাদির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব পর্যটন দিবস: ঢাকার কাছে, তবু কেন লোকসানে সালনার সরকারি রিসোর্ট

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ Time View

প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ঢাকার কাছের সালনা সরকারি রিসোর্টটি চার বছরে লোকসান গুনেছে এক কোটি ৫ লাখ টাকারও বেশি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

রাজধানীর ব্যস্ততা ও যান্ত্রিক কোলাহল থেকে মাত্র ৩৬ কিলোমিটার দূরে, সবুজ শালবনের কোল ঘেঁষে তৈরি হয়েছিল সালনা পর্যটন রিসোর্ট অ্যান্ড পিকনিক স্পট। কথা ছিল, ঢাকার মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়াবে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চালুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাঙ্ক্ষিত পর্যটক টানতে পারছে না রিসোর্টটি, উল্টো প্রতি বছরই ভারী হচ্ছে লোকসানের বোঝা।

কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘেঁষে বনবিভাগের ৯ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা এই রিসোর্টটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে। প্রায় ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা খরচে ২০২২ সালের জুনে উদ্বোধন করা হয় পর্যটন কেন্দ্রটি।

এখানে ছয়টি এসি কটেজ, সাতটি নন-এসি কটেজ, রেস্তোরাঁ, কনফারেন্স হল, শালবন ও পিকনিক শেডসহ পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে।

পর্যটকের পদচারণা, ভিড়, আড্ডাসহ নানা আয়োজনে জমজমাট থাকার কথা থাকলেও শনিবার দুপুরে গিয়ে দেখা গেল উল্টো চিত্র। রিসোর্টটি যেন জনশূন্য।

প্রতিষ্ঠার পর চার অর্থবছরে স্ট্যাবলিশমেন্ট কস্ট বাদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি মোট আয় করেছে ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০ টাকা। আর এই অর্থ আয় করতে পরিচালনা ও অন্যান্য খাতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬০ হাজার ৩২৫ টাকা। ফলে চার বছরে মোট লোকসানের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১৯৫ টাকা।

অর্থবছরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়—

• ২০২২-২৩ অর্থবছর: আয় ২২ লাখ ৪২ হাজার ৩৯৬ টাকা, ব্যয় ৪৬ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭৪ টাকা (লোকসান ২৪ লাখ ৪৫ হাজার ৪৭৮ টাকা)।

• ২০২৩-২৪ অর্থবছর: আয় ৪৬ লাখ৭১ হাজার ৬৮৩ টাকা, ব্যয় ৮১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬ টাকা (লোকসান ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২১৩ টাকা)।

• ২০২৪-২৫ অর্থবছর: আয় ৬৬ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬১ টাকা, ব্যয় ৮৬ লাখ ১১ হাজার ৩২৫ টাকা (লোকসান ১৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৪ টাকা)।

• ২০২৫-২৬ অর্থবছর: আয় ৪৮ লাখ ৩ হাজার ৯০ টাকা, ব্যয় ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার ২৩০ টাকা (লোকসান ২৬ লাখ ৭৩ হাজার ১৪০ টাকা)।

বিশাল ব্যয়ে নির্মিত এই কেন্দ্রটি কেন লাভজনক হচ্ছে না- এমন প্রশ্নে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, প্রচারের অভাব ও বিনোদনমূলক সামগ্রীর ঘাটতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও ভ্রমণপিপাসুরা।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি বদলি হওয়া রিসোর্টের সাবেক ব্যবস্থাপক মো. সাবের উদ্দিন রনি বলেন, “স্থাপন তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মেলেনি। এখানে কিডস জোন, সুইমিং পুল, দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক ও নতুন ল্যান্ডস্কেপিং তৈরির পাশাপাশি নতুন ইভেন্ট যুক্ত করা গেলে আয় বাড়ত।”

রিসোর্টের বর্তমান ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, “প্রকৃতির কোলে গড়ে উঠলেও পর্যটকদের আকর্ষণ করার অনেক সুযোগ এখনও বাকি। এখানে খেলার মাঠ, কিডস জোন বা সুইমিং পুল নেই। ২০ জন জনবলের জায়গায় মাত্র ১০ জন দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে নতুন সুবিধা যুক্ত করে রিসোর্টটি নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে।”

আন্তর্জাতিক পর্যটন সংক্রান্ত নানা সংস্থায় যুক্ত ব্যক্তিরাও এতে ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখছেন।

বাংলাদেশ পর্যটন সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান বলেন, “আমরা কোনো পিকনিক, আনন্দ ভ্রমণ বা শিক্ষা সফরের ইভেন্ট বুকিং দিতে গেলে তারা জনবল সংকটের কথা বলে অপারগতা জানায়। এ ছাড়া এখানে সুইমিং পুল নেই, ভেতরে অবাধে মোটরসাইকেল ও বহিরাগতদের আনাগোনা থাকে। এসব কারণে দর্শনার্থীরা আগ্রহ হারাচ্ছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, “এটি সরকারি খরচে পর্যটন অবকাঠামো বানিয়ে তা অলস ফেলে রাখার একটি বাস্তব উদাহরণ। চার বছরে পরিচালন ব্যয় চালাতে পারল না। নতুন করে পরিকল্পনা করে লাভজনক না করতে পারলে এটা চালু রাখা কঠিন।”

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) মো. মইনুল ইসলাম বলেন, “গাজীপুরের এই রিসোর্টে নতুন সুবিধা যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে পাঁচ বছরের মূল হিসাব ধরলে প্রারম্ভিক বিনিয়োগের কারণে লোকসান বড় দেখায়। আমরা পর্যটক বাড়াতে কাজ করছি।"

জাসদ কার্যালয়ে গণআটক: মব কি এবার রাষ্ট্রসম্মত হলো?

পর্যটনে বাংলাদেশ: সম্ভাবনার দেশ, দায়িত্বহীনতার শিল্প

শহর কার, কুকুর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কার?

পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ কি ফোয়ারার পানিতে ধুয়ে যাবে?

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ