1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
রংপুর বিভাগের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ উদযাপন মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন: যে ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত সরকার চামড়া ও পাদুকা শিল্পের রপ্তানি বাড়াতে রোডম্যাপ তৈরী করছে ইমানের অষ্টম শাখা: হাশরের ওপর বিশ্বাস ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন পেল বুস্ট-রবি ও বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পাওনাদারের টাকা পরিশোধ এড়াতে ‘অপহরণের’ নাটক ব্যবসায়ীর ভৈরবের ভাঙনে হারাচ্ছে শিকড়, সরকারের কাছে আকুতি মালয়েশিয়ার নাজমুসের চট্টগ্রামে উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ : রুহুল কবির রিজভী

সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ‘অ্যাক্রেডিটেশন’ উদযাপন

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন দেশের চিকিৎসাশিক্ষা খাতের জন্য এক অনন্য গৌরবের মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. শফিকুর রহমান সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন যে স্বীকৃতি অর্জনের চেয়ে তা ধরে রাখা এবং এর মর্যাদা রক্ষা করা অনেক বেশি কঠিন কাজ। এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর আমানউল্লাহ কনভেনশন হলে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা এখন বিশ্বস্বীকৃত। ডা. শফিকুর রহমান বলেন কিছু মানুষের সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলেই সিলেটে শুধুমাত্র নারীদের জন্য একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আজ জাতীয় গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক পরিসরে চিকিৎসাশিক্ষার অনন্য স্বীকৃতি নিশ্চিত করেছে। নারীদের বিশ্বমানের দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আধুনিক চিকিৎসাসেবায় প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশে পরিচালিত শতাধিক মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কঠোর মানদণ্ড পূরণ করে এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি প্রতিষ্ঠান অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এই শীর্ষ তালিকার মধ্যে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গৌরবোজ্জ্বল অন্তর্ভুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এই সফলতার ধারাবাহিকতা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। তিনি জানান এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তি কিংবা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত প্রচেষ্টার ফল নয়। গভর্নিং বডি, অধ্যক্ষ, শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সম্মিলিত কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগের ফলেই আজকের এই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এসেছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে যারা এর অগ্রযাত্রায় ঘাম ঝরিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের অবদান এই অর্জনের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠানটি উদ্যোক্তাদের হাত ধরে গড়ে উঠলেও এটি এখন পুরো সিলেটবাসীর সামগ্রিক গৌরবের সম্পদে পরিণত হয়েছে। অ্যাক্রেডিটেশন প্রাপ্তির পর চিকিৎসাশিক্ষার উৎকর্ষ সাধনের পাশাপাশি হাসপাতালে আগত সাধারণ রোগীদের জন্য সর্বোচ্চ মানের মানবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে এই মেডিকেল কলেজ থেকে আগামী দিনে কেবল পেশাগত দক্ষতাই নয়, বরং গভীর মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরি হবে যারা নিঃস্বার্থভাবে আর্তমানবতার সেবায় নিজেদের আত্মনিয়োগ করবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রখ্যাত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহানা ফেরদৌস। কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হোসাইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, হলি সিলেট হোল্ডিং লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ফজলুর রহিম কায়সার, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ মতিন, ভাইস চেয়ারম্যান মো. ফখরুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী এবং উদ্যোক্তা পরিচালক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।

এর আগে স্বাগত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. তহুর আব্দুল্লাহ চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাওলানা জাদুল আহমদ। ঐতিহাসিক এই প্রাতিষ্ঠানিক অর্জনকে ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে।

এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কাটার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী। পরবর্তীতে আমানউল্লাহ কনভেনশন হলে আলোচনা সভা ও প্রীতি মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় মেডিকেল কলেজের নিজস্ব মিলনায়তনে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ