উশুকা জিন্নাত আক্তারের হাত ধরে জাপানের নাগোয়ায় পদকের আনুষ্ঠানিকতায় প্রথমবারের মতো উড়লো বাংলাদেশের পতাকা। এশিয়ান গেমসে উশুতে ৫২ কেজি ওজনশ্রেণীর ফাইটে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন জিন্নাত। সেই সাথে গেমসের পঞ্চম দিনে এসে পদক তালিকায় নাম উঠলো বাংলাদেশের।
পদক গতকাল মঙ্গলবারই নিশ্চিত হয়েছিল। আজকের সেমিফাইনাল ছিল সেই পদকের রঙ নির্ধারক।
শক্তিশালী চীনের ইউ ডির বিপক্ষে পেরে ওঠেননি জিন্নাত আক্তার। ০-৪ পয়েন্টে হেরে এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক নিয়েই তাকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে।
এর আগে প্রথম রাউন্ডে বাই পান জিন্নাত। খেলতে হয়নি কোয়ার্টার ফাইনালও। ইন্দোনেশিয়ার থারিসা ফ্লোরেন্তিনার ওজন বেশি হওয়ায় ডিসকোয়ালিফাইড হন। ফলে না খেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছিলেন জিন্নাত আক্তার। উশুতে স্বর্ণ ও রুপার সঙ্গে দু’টি ব্রোঞ্জ পদকও থাকে (প্রতিযোগীর সংখ্যা ৮ কিংবা কম হলে অবশ্য ব্রোঞ্জ পদক একটাই থাকে)। নারীদের ৫২ কেজি ফাইট ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন ১৫ প্রতিযোগী। ফলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছিল পদকও।
পদক জয়ের পর জিন্নাত বলেন, ‘আমার প্রথম আন্তর্জাতিক গেমস এটা। আল্লাহর রহমতে এখান থেকে পদক পেয়েছি। সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে সারারাত ঘুমাতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, সারা বছর নিবিড় অনুশীলনের জন্য নিজস্ব একটি ভেন্যু খুব প্রয়োজন। সাথে প্রয়োজন বিদেশি কোচ। তাহলেই উশুতে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।
১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে বক্সার মোশাররফ হোসেন বাংলাদেশকে প্রথম কোনো পদক উপহার দিয়েছিলেন। সেটিও ছিল ব্রোঞ্জ। দীর্ঘ ৪০ বছর পর মোশাররফের পাশে নাম লেখালেন জিন্নাত।