1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০০ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা নিয়ে বড় সুখবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধর ও হামলার ঘটনায় রেলের ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন রাজশাহী স্টেশনে রাতভর উত্তেজনার পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাজশাহী রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীকে মারধরে আনসারের সম্পৃক্ততা নেই: বিজ্ঞপ্তি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে নতুন অস্ত্র ব্যবহার করবে ইরান: আইআরজিসি মালয়েশিয়ার কুয়ালা পারলিসের আন্তর্জাতিক জল উৎসবে ৫৫ হাজার দর্শনার্থী ভালোবাসায় আপ্লুত ফারহান, ইন্দোনেশিয়ায় জয়ের আশা জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন সেনাপ্রধান কেরানীগঞ্জ কারাগারে অসুস্থ ২ বন্দির ঢাকা মেডিকেলে মৃত্যু স্পেনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন, স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি কমিশনের

প্রযুক্তি শিক্ষা ও নেতৃত্বে জুবায়ের

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৫ Time View

মুহাম্মদ জুবায়ের হোসেন একজন বাংলাদেশি তরুণ উদ্যোক্তা, এডটেক প্ল্যাটফর্ম নির্মাতা ও যুব সংগঠক। ঢাকা কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন তিনি। ২০১৯ সালে শুরু করেন ডিজিটাল সেবা প্রতিষ্ঠান ওয়েবকিহ (WEBKIH)। পরে শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস প্রস্তুতির জন্য তৈরি করেন আইইএলটিএস মক ল্যাব। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ২০২৫ সালে গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৬ সালে পূর্ণ অর্থায়নে রাশিয়ার ইয়েকাতেরিনবুর্গে ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ (আইএফওয়াই) এবং ভ্লাদিভস্তকে ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন সাকিবুল হাসান।

জুবায়েরের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথটি পরিকল্পিত ছিল না। ঢাকা কলেজে ইংরেজি পড়ার সময় ওয়েবসাইট তৈরির প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। সেই থেকে ২০১৯ সালে শুরু করেন ওয়েবকিহ। কাজ করতে গিয়ে ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং ও প্রোডাক্ট তৈরির বিভিন্ন দিক শেখেন। পরে শিক্ষার্থীদের আইইএলটিএস প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য তৈরি করেন আইইএলটিএস মক ল্যাব। পাশাপাশি লিও ক্লাব অব ঢাকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রায় ৬০টি সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

২০২৪ সালের ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল এবং ২০২৫ সালের গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে অংশ নেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিভিন্ন যুব ও অর্থনৈতিক আয়োজন সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজ রাখতেন জুবায়ের। সেখান থেকে ২০২৬ সালের আইএফওয়াই ও ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরাম সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁর কাছে এগুলো ছিল শেখা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নিজের কাজ তুলে ধরার সুযোগ। প্রযুক্তি, শিক্ষা ও যুব নেতৃত্ব নিয়ে তাঁর কাজের সঙ্গে দুটি আয়োজনের বিষয়বস্তুরও মিল রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৪-এ ১৮ দিন রাশিয়ায় থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সরাসরি মেশার ফলে সংস্কৃতিগত পার্থক্য বোঝার সুযোগ পেয়েছেন। গ্লোবাল ডিজিটাল ফোরামে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়েও নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। তাঁর মতে, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি সম্মানের মাধ্যমেও দেশের পরিচয় তুলে ধরা যায়।

মূলধনের সীমাবদ্ধতা, দক্ষ টিম তৈরি, মানুষের আস্থা অর্জন এবং কম খরচে মানসম্মত সেবা দেওয়া তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় একজনকেই ডেভেলপমেন্ট, মার্কেটিং ও কাস্টমার সাপোর্টের মতো একাধিক কাজ সামলাতে হয়। আইইএলটিএস মক ল্যাবের ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী তৈরি করার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্ম উন্নত করা এবং ব্যবসাটিকে টেকসই করা চ্যালেঞ্জ ছিল। এসব অভিজ্ঞতা তাঁকে সীমিত সম্পদে কাজ করা, দ্রুত শেখা ও সমস্যা মোকাবিলা করতে শিখিয়েছে।

জুবায়েরের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে এখনো দূরত্ব রয়েছে। অনেকের সনদ থাকলেও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা, যোগাযোগ, প্রযুক্তি ব্যবহার, সমস্যা সমাধান ও দলগত কাজের দক্ষতা কম। অনেক তরুণের কাছেও ভালো মেন্টর বা সুযোগ সহজে পৌঁছায় না। তাঁর মতে, বাংলাদেশে মেধাবী তরুণের অভাব নেই। প্রয়োজন তাঁদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে সঠিক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।

জুবায়েরের মতে, প্রথমে একটি পেশাগত দক্ষতা অর্জন করা দরকার। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা, প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের জ্ঞান, গবেষণা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং নিয়মিত শেখার অভ্যাস থাকা দরকার। শুধু সনদের পেছনে না ছুটে নিজের কাজের একটি পোর্টফোলিও তৈরি করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর ভাষায়, সনদ যোগ্যতার কথা বলে, আর পোর্টফোলিও দেখায় বাস্তবে কী করা যায়।

জুবায়েরের পরামর্শ, আবেদন করার আগে নিজের কাজের একটি রেকর্ড তৈরি করুন। স্বেচ্ছাসেবা, গবেষণা, সামাজিক উদ্যোগ, কোনো প্রকল্প দিয়ে শুরু করা যায়। এসব কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। নিয়মিত অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগের খোঁজ রাখতে হবে। সিভি, সনদ, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগে থেকে প্রস্তুত রাখলে আবেদন করা সহজ হয়। আবেদনের সময় নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় না পাওয়ার কথাও বলেন। একটি আবেদন ব্যর্থ হলেও পরের আবেদন আরও ভালো করার সুযোগ থাকে।

শুরু করার জন্য নিখুঁত ইংরেজি, অনেক টাকা বা বড় পরিচিতি কোনোটিই অপরিহার্য নয় বলে মনে করেন জুবায়ের। তাঁর পরামর্শ, একটি দক্ষতা দিয়ে শুরু করতে হবে। ছোট কোনো দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত কাজ করতে হবে। ইন্টারনেটকে শেখার কাজে ব্যবহার করা, নিজের সমাজের জন্য কিছু করা এবং কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, সুযোগের অপেক্ষা না করে সুযোগের জন্য আবেদন করা উচিত। ধীরে এগোলেও সমস্যা নেই। ছোট ছোট কাজই একসময় পরিচয় তৈরি করে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ