1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঢেলে সাজিয়ে তৃণমূল গোছাতে চায় বিএনপি

Reporter Name
  • Update Time : শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠন ও তৃণমূল পর্যায়কে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিলের সময়সূচি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বিএনপি।

বিষয়টি নিয়ে আগামীকাল শনিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হবে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকে কাউন্সিলের সম্ভাব্য সময়সূচি নির্ধারণ এবং আয়োজনের জন্য দলের প্রস্তুতি কতটুকু—তা মূল্যায়ন করা হবে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল করেছিল বিএনপি। ছয় বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত সেই কাউন্সিলে খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন এবং তারেক রহমান সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতি তিন বছর অন্তর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই কাউন্সিলেই বিভিন্ন কমিটি গঠন বা অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিগুলোর মেয়াদও তিন বছর। সেই নিয়ম অনুযায়ী, দলটি এখন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে কয়েক বছর পিছিয়ে আছে।

দলীয় নেতারা এই বিলম্বের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিধিনিষেধ, আইনি মামলা, গ্রেপ্তারসহ সাংগঠনিক নানা প্রতিকূলতাকে দায়ী করেছেন।

তবে এখন নতুন করে কাউন্সিল আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকে সরকারে যোগ দেওয়ার পর তৃণমূলের কর্মকাণ্ড কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। তাই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাইরে নতুন একটি নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই কাউন্সিলকে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিল হলো এমন একটি ফোরাম, যেখানে দলীয় নীতিমালা অনুমোদন করা হয়, গুরুত্বপূর্ণ কমিটি নির্বাচন করা হয়, গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয় এবং সাংগঠনিক বড় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

শনিবার অনুষ্ঠেয় বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, বিরোধী দলের কর্মকাণ্ড, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটসহ দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজন করতে পারলে তা দলের জন্য সুফল বয়ে আনবে।

তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা তাদের দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। একইসঙ্গে তাদের অনেকেই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। জেলা পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পর্যন্ত সবার ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। এসব দিক বিবেচনায় নিলে দলকে এগিয়ে নিতে এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরও জানান, দলকে সামনে এগিয়ে নিতে সক্ষম এমন নেতৃত্বকে মূল্যায়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, বেশ কিছু জেলা কমিটির পুনর্গঠন কাজ এখনো বাকি এবং এর মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জাতীয় কাউন্সিলের তারিখ চূড়ান্ত করাটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ৮২টি জেলা ও মহানগর কমিটির মধ্যে ৭২টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

কাউন্সিলের আগে বিএনপি তৃণমূলের ইউনিটগুলোকে ঢেলে সাজাতে চায়। এজন্য মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পাল্টে ফেলা, আংশিক কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করা এবং জেলা সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের ওপরও জোর দিচ্ছে দলটি।

আসন্ন কাউন্সিলে দলের মহাসচিব পদটি আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে রুহুল কবির রিজভী বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে রুহুল কবির রিজভীর নাম মহাসচিব পদের জন্য জোরালোভাবে আলোচনায় আসছে।

অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের তুলনায় তিনি দাপ্তরিক কাজে কম ব্যস্ত, কারণ তিনি সংসদ সদস্য নন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দলীয় নেতারা আরও জানান, রিজভী দলের সাংগঠনিক কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন। বিশেষ করে কঠিন সময়ে দলের কার্যক্রম সমন্বয়ে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাকে এই পদের জন্য একজন উপযুক্ত প্রার্থী করে তুলেছে।

এরইমধ্যে জাতীয় কাউন্সিলের পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চালাচ্ছে বিএনপি।

দলীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ১১টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে ৯টিরই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করছে।

এর আগে দলটি মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল, যার মধ্যে ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিএনপি এমন নেতাদের সামনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে, যারা ক্ষমতার বাইরে থাকার দীর্ঘ বছরগুলোতে দলের কার্যক্রম সচল রেখেছিলেন।

হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, রকিবুল ইসলাম বকুল এবং মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুসহ বেশ কয়েকজন নেতার কাঁধে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে দলটি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ