অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবন নিয়েও বরাবরই আলোচনায় থাকেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। সম্প্রতি শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরেও তাঁর বিয়ে নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছিল নানা জল্পনা।
এবার ব্যক্তিজীবন, গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা ও চলমান আইনি লড়াইসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি রাজধানীর শুটিং ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পরীমনি। এ সময় নিজের ব্যক্তিগত জীবন, গ্রেপ্তারের অভিজ্ঞতা, চলমান মামলা এবং ভবিষ্যতে আবারও বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।
বিয়ে ও ব্যক্তিজীবন প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘আমি যদি আমার ভাইয়ের সঙ্গেও ছবি দিই, গালি খাই।
মানুষ আমাকে কোনো পুরুষের সঙ্গে দেখতে চায় না। সবাই আমাকে সিঙ্গেল দেখতে চায়, আমার বাচ্চাটার সঙ্গে দেখতে চায়। এতে কী আনন্দ আমি জানি না।’
গ্রেপ্তারের ঘটনা প্রসঙ্গেও কথা বলেন পরীমনি।
দীর্ঘদিন এ বিষয়ে নীরব থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জেল থেকে আসার পর এ বিষয়ে আমি একবারও কথা বলিনি। আমার শুধু মনে হয়েছে, সত্য একদিন ব্লাস্ট করে। আপনি যতই চাপা দিয়ে রাখেন, কোনো না কোনোভাবে তা বেরিয়ে আসে। যেমন কোনো অপরাধই নিখুঁত নয়, তেমনি কোনো সত্যও চিরদিন চাপা থাকে না।’
গ্রেপ্তারের সময় আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলেও দাবি করেন অভিনেত্রী।
তাঁর ভাষ্য, গ্রেপ্তারের সময় কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। এমনকি তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানোর অনুমতিও সংশ্লিষ্টদের কাছে ছিল না।
পরীমনি জানান, পরবর্তী সময়ে পুরো ঘটনার বিবরণ শোনার পর তাঁর মনে হয়েছে, অনেক কিছুই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন তিনি।
অভিনেত্রী বলেন, ‘এই ছয় বছরে ধৈর্যই আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি যে কী পরিমাণ হ্যাপি, মনে হয়েছে যে আমার দুইটা পাখা হয়েছে, আমি অনেক রিলিফ হয়ে গেছি, মনে হয় ঘাড় থেকে সমস্ত বোঝা নেমে গেছে।’
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে নিজের আস্থার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কখনো রাষ্ট্রকে চাপ দিইনি বা আহাজারি করিনি। আমি আইনের ওপর বিশ্বাসী। যতদিন সময় লাগুক, যত বছর হাজিরা দিতে হোক, আমি দেব। আমার বিশ্বাস, একদিন আদালত আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করে সম্মান ফিরিয়ে দেবে।’
দেশে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন পরীমনি। তাঁর মতে, শুধু শিল্পী নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। শিল্পী, রিকশাচালক কিংবা অন্য যে কেউ—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হয়রানি ও হেনস্তা থেকে মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।