ক্রীড়া ডেস্ক
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১–০ গোলে পরাজিত করে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট অর্জন করেছে স্পেন। গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলটি স্পেনের জয় নিশ্চিত করে। ২০১০ সালের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জয়।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন তাদের চিরাচরিত ‘তিকি-তাকা’ ফুটবল শৈলী বজায় রেখে বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে। প্রথমার্ধে স্পেনের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং নিখুঁত পাসিংয়ের সামনে আর্জেন্টিনা বেশ চাপে ছিল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ম্যাচে স্পেনের বল দখলের হার ছিল ৬৫ শতাংশ। ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টে কোনো শট নিতে না পারা তাদের রক্ষণাত্মক কৌশলের সীমাবদ্ধতাকেই স্পষ্ট করে তোলে। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এটি একটি বিরল পরিসংখ্যান।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ডিফেন্সিভ লাইন সামলাতে গিয়ে আর্জেন্টিনা বেশ বেগ পেতে হয়। ৪৪তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ হলুদ কার্ড দেখেন এবং পরবর্তী সময়ে চোটের কারণে তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ লিওনেল স্কালোনি। দ্বিতীয়ার্ধেও স্পেনের আক্রমণ অব্যাহত থাকে। ৬৮তম মিনিটে লামিন ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের জোরালো হেড আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ডেডলক ভাঙে স্পেন। নিকো উইলিয়ামসের বাড়ানো ক্রস থেকে ফেরান তোরেস হেডের মাধ্যমে গোল করে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন। এর আগে অবশ্য স্পেনের আরও দুটি গোল বাতিল হয়েছে। ৯৬তম মিনিটে মিকেল মেরিনোর গোলটি ফাউলের কারণে এবং ১১৩তম মিনিটে ফেরান তোরেসের দ্বিতীয় গোলটি অফসাইডের কারণে রেফারি বাতিল ঘোষণা করেন।
ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ালেও স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণভাগের কাছে তা ব্যর্থ হয়। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে পাউ কুবারসিকে ফাউল করার দায়ে এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে ১০টি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিলেও, স্পেনের রক্ষণ ও মাঝমাঠের শক্তিশালী কৌশলের সামনে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের হার মানতে হয়।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে স্প্যানিশ ফুটবল দল বিশ্ব ফুটবলে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল। অন্যদিকে, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্য দেখালেও চূড়ান্ত জয়ের খুব কাছে গিয়ে হোঁচট খেল। ফাইনালের এই জয় ফুটবল ইতিহাসে স্পেনের জন্য এক নতুন সাফল্যের স্মারক হিসেবে বিবেচিত হবে। ম্যাচ শেষে স্পেনের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে জয়ের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে, যা তাদের দীর্ঘ প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।