প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের শেষদিকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (ইউএনজিএ)’র অধিবেশনে বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
আজ বিকেলে এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও রূপরেখা তুলে ধরবেন—নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে, সে বিষয়টি তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন এবং ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে বৈঠকসহ তার ব্যস্ত কর্মসূচি রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং কীভাবে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার নির্বাচিত হয়েছে, তা তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার চিন্তা ও ভাবনা বিশ্বনেতাদের সঙ্গে তুলে ধরবেন এবং বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই সমাধান ও বিভিন্ন সংকটের সমাধান এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ কীভাবে একটি প্রভাবশালী ও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চায়, তার রূপরেখাও তুলে ধরবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব—বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়ে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্ব পাবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, সফরকালে রোহিঙ্গা সংকটও বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ও একটি সাইড ইভেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি সাইড ইভেন্ট আয়োজন করব।’ দীর্ঘস্থায়ী এ সংকটকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখতে বাংলাদেশ তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকসহ সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রায়ই শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া।’
হুমায়ুন কবির বলেন, এ সমাবেশে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় আলোচনা করবে। চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়া বৈঠকগুলোর বিস্তারিত যথাসময়ে জানানো হবে।