১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার এবং ব্যাংক গ্যারান্টি দাখিলের মাধ্যমে আমদানি সংক্রান্ত আদেশ স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানকে লেখা চিঠিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, আদেশটি অধিকতর পর্যালোচনার জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সুতা উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং প্রকৃত রপ্তানিকারকদের জন্য কাঁচামাল সরবরাহ সহজ করার উদ্দেশ্যে ১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা তুলে নিতে এনবিআরকে অনুরোধ জানিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে শিগগিরই বিজিএমইএ, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে বৈঠকে বসবেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, 'আশা করি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় দেশের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনা করে আমরা সবাই মিলে একটি সর্বসম্মত সমাধানে পৌঁছাতে পারব।'
সুতা ও কাপড়ের মতো কাঁচামাল আমদানিতে কড়াকড়ি নিয়ে দেশীয় টেক্সটাইল মিলমালিক ও পোশাক রপ্তানিকারকদের দ্বন্দ্বের মধ্যেই সরকারের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত এলো।
উল্লেখ্য, নতুন আমদানি নীতি আদেশের অধীনে সরকার নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের ব্যবহৃত নিট ফ্যাব্রিক আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এর ফলে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করেন ব্যবসায়ীরা।
১ সেপ্টেম্বর বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে চিঠি দিয়ে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তৈরি পোশাক খাতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিট পোশাক খাতের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সিংহভাগ সরবরাহের সক্ষমতা এখন দেশীয় টেক্সটাইল মিলগুলোর রয়েছে। তবে কিছু বিশেষায়িত কাঁচামাল এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়।
তবে রপ্তানিকারকদের দাবি, সব ধরনের নিট ফ্যাব্রিক বাংলাদেশে তৈরি হয় না। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অনেক সময় উচ্চ মূল্যের কাপড়, বিদেশি ক্রেতাদের নির্দিষ্ট করে দেওয়া কাঁচামাল এবং সস্তা কাঁচামাল বাইরে থেকে আনতে হয়।
অন্যদিকে টেক্সটাইল মিলমালিকদের মতে, স্থানীয় নিট পোশাকের চাহিদা মেটাতে দেশীয় মিলগুলোর যথেষ্ট উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। আমদানিতে কড়াকড়ি থাকলে বিদেশি ক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছেমতো কাঁচামাল ক্রয়ের শর্ত চাপিয়ে দিতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে ৩৯ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে, যার সিংহভাগ আসে নিটওয়্যার খাত থেকে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.