1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একই দলিলের জাবেদায় দুই ধরনের তথ্য হোটেল খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে: মো. আল আমিন শ্রীলঙ্কাকে টপকে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার ছয়ে আফগানিস্তান এবারের স্থানীয় নির্বাচনে কারা পাবেন বিএনপির মনোনয়ন, জানালেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘুমের মধ্যেই মারা গেলেন অভিনেতা অনুজ, বয়স হয়েছিল ৩৩ ‘কিং’ সিনেমার প্রথম গান: শাহরুখ-দীপিকার ‘তু মিল যায়ে’ ডিসেম্বরে বড়পর্দায় সজল-অধরা জুটির প্রথম সিনেমা শুটিং সেটে গোপনে ভিডিও ধারণ, সতর্ক করলেন অভিনেত্রী বুটেক্সের আন্ত:বিভাগীয় ফুটবল টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন টিএমডিএম সুখী দেশ ফিনল্যান্ডে সিঙ্গেলদের বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ, আবেদন করবেন যেভাবে

বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের মাঝেও আলো ছড়াল রাজশাহী কলেজ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২৪ Time View

রাজশাহী: উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে যখন বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে, তখন সেই হতাশার বিপরীতে সাফল্যের আলো ছড়িয়েছে রাজশাহী কলেজ।

বোর্ডে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। তবে বোর্ডের এমন ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও রাজশাহী কলেজে পাসের হার প্রায় শতভাগ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩৯ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫০ জন শিক্ষার্থী।

ফল প্রকাশের পর রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে দেখা যায় আনন্দের চিত্র। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। কারও মুখে সাফল্যের হাসি, কেউ আবার কৃতিত্বের পেছনে মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদানের কথা বলছে। সন্তানদের ভালো ফলাফলে খুশি অভিভাবকেরাও। তাদের অনেকের চোখে এখন সন্তানদের ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পেশাজীবনের স্বপ্ন।

রাজশাহী কলেজে মোট ৪৪১ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছেন ৪৩৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন মাত্র দু’জন। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে রয়েছে। এ বিভাগ থেকে ২৬০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। মানবিক বিভাগে ৯৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৮৫ জনের মধ্যে ৪৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। এ বিভাগে দু’জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী শিরীন আক্তার বলেন, ‘সিলেবাস কিছুটা কঠিন ছিল। তবে ভালোভাবে পড়াশোনা করলে ভালো ফল করা সম্ভব।’ তিনি জানান, ‘পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। পড়াশোনার প্রয়োজনে মায়ের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নিয়মিত চেষ্টা ও পরিশ্রমের ফলেই ভালো ফল করতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে পরিবারও আনন্দিত। ভালো ফল করতে পেরে তিনি নিজেও অনেক খুশি।

জিপিএ-৫ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী রবিউল আহমেদ জানান, তার এ সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবদান রয়েছে। তারা আন্তরিকতার সঙ্গে পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন। তিনিও নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। সবার সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে প্রত্যাশিত ফল পেয়েছেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার ইচ্ছা তার। বাবাও তাকে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান।

ছেলের জিপিএ-৫ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে অভিভাবক আমজাদ হোসেন জানান, ছেলের ফলাফল নিয়ে তারা বেশ চিন্তায় ছিলেন। শেষ পর্যন্ত সে ভালো ফল করায় পরিবারের সবাই আনন্দিত। তিনি ছেলেকে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান। তার প্রত্যাশা, চিকিৎসক হয়ে ছেলে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।

জিপিএ-৫ পাওয়া মেয়ের ফলাফলে খুশি অভিভাবক ফাতিমা আক্তারও। তিনি জানান, তার মেয়ে রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেছে। কলেজের শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক। তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনেক পরিশ্রম করে পড়াশোনা করেছে। সেই পরিশ্রমের ফল পেয়ে পরিবারের সবাই আনন্দিত। মেয়েকে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান তিনি। তার প্রত্যাশা, চিকিৎসক হয়ে মেয়ে সাধারণ মানুষের সেবা করবে।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় ভালো করতে পারেনি। এ কারণে তারা অকৃতকার্য হয়েছে। তবে সামগ্রিক ফলাফলে আমরা সন্তুষ্ট। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ও ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অনেকেই শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে কোচিংয়ের দিকে বেশি ঝুঁকছে। এতে নিজে পড়াশোনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছে।’

মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার ইতিবাচক দিক যেমন রয়েছে, তেমনি এর অপব্যবহারের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মোবাইল ফোন পড়াশোনায় সহায়ক হতে পারে। আবার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।’ এ ছাড়া, আগের বছরগুলোতে শর্ট সিলেবাস ও প্রশ্নের ধরনে পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খাপ খাওয়াতে না পারাও ফল খারাপ হওয়ার একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই সর্বনিম্ন পাসের হার। ফল বিপর্যয়ের কারণ ব্যাখ্যা করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, ‘এবার পরীক্ষার খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। যারা ভালোভাবে পড়াশোনা করেছে, তারাই ভালো ফল করেছে। সবাই একইভাবে এগিয়ে যাবে, এমন নয়। যারা এবার উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদের বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ভালো ছিল এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি ভালো সুযোগ। বোর্ডের ফলাফল নিয়ে তারা হতাশ নন। তার মতে, এবার প্রকাশিত পাসের হার প্রকৃত ফলাফলের প্রতিফলন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ