বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে ছয়টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক থেকে থ্রিহুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের দাবিতে বাস চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। আজ সোমবার সকাল থেকে এ কর্মসূচি পালন করছেন চরকাউয়া বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব রুটের কয়েক হাজার যাত্রী। চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহারহাট, কাটাদিয়া, হলতা ও সিদ্দিক বাজার রুটে প্রায় ৭০টি বাস চলাচল করে। এসব রুটে প্রতিদিন গড়ে কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকে মোটরসাইকেল ও রিকশায় করে গন্তব্যে যাচ্ছেন। বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করতে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। চরকাউয়ার বাসিন্দা আফজাল হোসেন বলেন, রবিবার বিকাল থেকেই বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে তারা বেশ ভোগান্তিতে পড়েছেন। জানা গেছে, রবিবার চরকাউয়া বাস টার্মিনালে বাস, থ্রিহুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে বাসশ্রমিকরা সড়কে থাকা ৯টি থ্রিহুইলার ভাঙচুর করেন। এ ঘটনার পর অটোরিকশাচালকরা বাস চলাচল বন্ধ করে সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে সড়কে থ্রিহুইলার চলাচল বন্ধের দাবি জানান বাস মালিক ও শ্রমিকরা। আরও পড়ুন মনোহরদীতে কবি সোনিয়া হোসেনকে সংবর্ধনা, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ০২ নভেম্বর ২০২৬ বাস মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, থ্রিহুইলারের কারণে সড়কে বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অটোরিকশা চলাচল করায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে দ্রুত সড়ক থেকে থ্রিহুইলার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সভাপতি মামুন খন্দকার বলেন, থ্রিহুইলার চালকদের কারণে সড়কে বাস চালানো যাচ্ছে না। তারা বিভিন্নভাবে বাসচালক ও শ্রমিকদের হয়রানি করছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন হোসেন বলেন, সোমবার বাস চলাচলের চেষ্টা করেছিলেন তারা। তবে থ্রিহুইলারচালকদের বাধার কারণে বাস চালানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে আন্দোলনরত অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, বাসচালক ও শ্রমিকরা তাদের নিয়মিত হয়রানি ও নির্যাতন করেন। তাদের যাত্রীদেরও হয়রানি করা হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে অটোরিকশায় ধাক্কা দিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ তাদের। অটোরিকশাচালকরা বলেছেন, নিরাপদে চলাচল ও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে তারা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।