1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

পুঁজিবাজারে করনীতি: মূলধনি মুনাফায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত করছাড় চায় ডিবিএ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

• ৫০ লাখ টাকার করমুক্ত সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব

• স্পনসর ও পরিচালকদের কর বহাল রাখার পক্ষে

• নির্দিষ্ট লেনদেনেই করছাড় কার্যকরের দাবি

পুঁজিবাজারে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বর্তমানে কর অব্যাহতি রয়েছে। এর বেশি মুনাফার ওপর সাধারণভাবে ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। এই সীমা তুলে দিয়ে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

সংগঠনটির মতে, মূলধনি মুনাফায় কর ছাড় দিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে, বাজারে লেনদেন ও তারল্য বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগ থেকে পাওয়া মুনাফায় আবার পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইক্যুইটি অর্থায়ন পাওয়ার পথও প্রসারিত হতে পারে।

গত বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে ডিবিএ।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধন করে স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেন থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফা করমুক্ত করা যেতে পারে। অর্থাৎ প্রস্তাবিত সুবিধা সব ধরনের সম্পদ বিক্রি বা লেনদেনের ক্ষেত্রে নয়; নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শেয়ারবাজারে সম্পন্ন লেনদেনের জন্য প্রযোজ্য করার কথা বলেছে সংগঠনটি।

ডিবিএ ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহালের পাশাপাশি বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে স্পনসর, পরিচালক এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে সংগঠনটি অবস্থান জানিয়েছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রস্তাবিত সুবিধার পরিধি ও শ্রেণিভেদে করের প্রয়োগ স্পষ্ট করা জরুরি।

প্রস্তাবের সময়সীমা নির্ধারণের পেছনেও একটি কারণ দেখিয়েছে ডিবিএ। সংগঠনটির মতে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ এবং কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজ হবে। সেই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার আগপর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে তারা।

ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির অর্থায়নের সুযোগও বাড়তে পারে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

ডিবিএ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে কর অব্যাহতি কার্যকর হলে সরকারের রাজস্বে কী প্রভাব পড়তে পারে, কত বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং সুবিধাটি কীভাবে লক্ষ্যভিত্তিক রাখা হবে—এসব বিষয়ে প্রস্তাবে কোনো পরিমাণগত হিসাব দেওয়া হয়নি।

ডিবিএর প্রস্তাবে কর অব্যাহতির পাশাপাশি পুঁজিবাজারে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংগঠনটির প্রত্যাশা, মূলধনি মুনাফায় কর না থাকলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির পর পাওয়া অর্থ আবার বাজারে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। এতে বাজারে লেনদেন বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ মেয়াদে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ