1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২১ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব সরকার এবং কৃষকরা আমাদের জীবনের অংশ: ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ইরান এখনো অনেক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি: আইআরজিসির হুঁশিয়ারি পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অগ্রহণযোগ্য’: ইতালির প্রধানমন্ত্রী বৈশাখী শোভাযাত্রায় ডিএমপির সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ‘যিশু সদৃশ’ ছবি নিয়ে বিতর্কে পড়ে ডিলিট করলেন ট্রাম্প বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে: ডেপুটি স্পিকার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশকে সমর্থন ব্রাজিলের নাগরিক জীবনমান সহনীয় করতে সরকারের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়: চরমোনাই পীর করোনার মতো এখন নকলেরও নানা ভেরিয়েন্ট হয়েছে : শিক্ষামন্ত্রী

গুজরাট থেকে উত্তরপ্রদেশে হাওয়াবদল দেখল বিজেপি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
  • ১২৮ Time View

‘আচ্ছে দিন’ এলো । বিরোধীদের জন্য।

লোকসভা ভোটের মাত্র চার মাসের মাথাতেই ঘোর দুর্দিন দেখল বিজেপি৷ উত্তরপ্রদেশে লাভ জিহাদের হুঙ্কার তোলা মোদির দল কোনো দাগই কাটতে পারেনি, এমনকি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেল বিজেপির শক্ত ঘাঁটি গুজরাট-রাজস্থানও৷ জন্মদিনের ঠিক আগের দিন এমন ‘উপহার’ স্বাভাবিক ভাবেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খুব আনন্দে রাখবে না৷ কারণ এই ফলকে শুধু রাজ্যস্তরের নেতাদের ব্যর্থতা বলে দায় ঝেড়ে ফেলতে পারবেন না নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি৷ তাই এই ফল প্রশ্ন তুলে দিল তাদের কৌশল নিয়েও৷
image_98618_0
পাশাপাশি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নির্বাচনী ইতিহাসের সব চেয়ে খারাপ ফল করার পরও, তাদের ঘুরে দাঁড়ানো যথেষ্টই তাত্পর্যপূর্ণ৷ যেমন তাত্পর্যপূর্ণ সমাজবাদী পার্টির ফল উত্তরপ্রদেশে৷ এই জয় এল এমন একটা সময়ে, যখন একের পর এক ধর্ষণের ঘটনায় রীতিমতো কোণঠাসা ছিল সমাজবাদী পার্টির সরকার৷ ধর্ষণ বিতর্ক ও পারিবারিক কলহের জেরে জেরবার অখিলেশের রাজনৈতিক দক্ষতা নিয়ে যখন প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছিল৷

এ কথা ঠিক, ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফল দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার যাচাই করার সময় এখনও হয়নি৷ তা হয়তো সব ক্ষেত্রে ঠিকও নয়৷ কিন্ত্ত তা সত্ত্বেও মোদি ম্যাজিক ম্লান হয়ে যাওয়ার প্রশ্নটা যে উঠছে, তার কয়েকটি কারণ আছে৷ তিরিশ বছর পর বিজেপি যে একক ভাবে কেন্দ্রে সরকার গঠন করতে পারল, তার পিছনে ছিল মোদির অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা৷ লোকসভার ফল দেখে মনে হচ্ছিল, বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া রোখা ভোট-ময়দানে প্রায় অসম্ভব৷ কিন্ত্ত ফের এক বার প্রমাণ হল রাজনীতিতে ‘অসম্ভব’ বলে কিছুই নেই৷ কারণ, মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিন দফায় উপনির্বাচন হল৷ প্রথমে উত্তরাখণ্ডে৷ সেখানে তিনটির মধ্যে তিনটিতেই বিজেপি হেরেছে৷ তার পর বিহার, মধ্যপ্রদেশ-সহ কয়েকটি রাজ্যে, যেখানে বিহারে লালু-নীতীশ-কংগ্রেস জোটের কাছে হেরে যায় বিজেপি৷ মধ্যপ্রদেশেও কংগ্রেস একটি আসন ছিনিয়ে নেয়৷ এবার উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান ও গুজরাটে হার৷ এর মধ্যে অধিকাংশই বিজেপির-ই আসন৷ যে বিধায়করা সাংসদ হয়েছেন, তাদের শূন্যপদে ভোট হয়েছিল৷ তার অনেক আসনই কিন্ত্ত ধরে রাখতে পারল না মোদির দল৷

তবে, প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তিতে যাতে আঁচড় না পড়ে, সে জন্য বিজেপি নেতারা সারা দিন ধরেই বলেছেন, এটা নেহাতই বিধানসভার উপনির্বাচন৷ এগুলি একেবারে স্থানীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে হয়৷ দলের মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেনের বক্তব্য, ‘বিধানসভার কয়েকটি উপনির্বাচনের ফলাফল দেখে দেশের রাজনৈতিক গতিবিধির বিচার হয় না৷’ উত্তরপ্রদেশ বিজেপির প্রধান লক্ষ্মীকান্ত বাজপেয়ীর দাবি, ‘নির্বাচনে এ রকম হতেই পারে৷ তার মানে এই নয় যে, ২০১৭ সালে উত্তরপ্রদেশে যখন বিধানসভা নির্বাচন হবে, তখন এই ফলাফলই হবে৷ সেখানে আমরা জিতবই৷ আর এই হারের দায়টা স্থানীয় নেতাদের৷’ কিন্ত্ত কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদের সাফ কথা, ‘এর আগে অন্য কোনো সরকারের আমলে, প্রথম একশো দিনের মধ্যেই এতখানি প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটদানের প্রবণতা হয়নি৷’

হারের যে কারণ বিজেপি-ঘনিষ্ঠ কাঞ্চন গুপ্তেরা মনে করেছেন তা হল, মোদি বিপুল প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন৷ কিন্ত্ত একশো দিনে সেই প্রতিশ্রুতির রূপায়ণ সম্ভব নয়৷ এই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়াতেই এই শোচনীয় ফল৷ তবে, মানুষের মনে যাতে তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি না হয়, সেটা দেখা সংগঠনের কাজ৷ সংগঠন সেটা করতে পারেনি৷ দ্বিতীয় যে বিষয়টি বিজেপির নেতারা ঘনিষ্ঠমহলে স্বীকার করছেন, জিনিসের দাম এবং পাকিস্তান নীতি, এই দুইয়ের জন্যও মানুষের মোহভঙ্গ হয়েছে৷ এর মোকাবিলা করতে গিয়ে উত্তরপ্রদেশে চরম যে পন্থা নেন অমিত শাহ, তা হল লাভ জিহাদ৷ তবে মুজফ্ফরনগর দাঙ্গা বিজেপিকে যে বিভাজনের সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিল, তা কিন্ত্ত দিতে পারেনি হিন্দু-মুসলিম ভাগের এই অঙ্ক৷ আর মায়াবতী না লড়লেও কোনো দলিত ভোটই পায়নি বিজেপি৷ পাশাপাশি, সন্দেহ নেই, এই ফলে মৃতপ্রায় কংগ্রেস কিছুটা চাঙ্গা হবে৷ কিন্ত্ত কংগ্রেসের এই জয় কিন্ত্ত সোনিয়া-রাহুলকে বাদ দিয়ে৷ কারণ, তারা তো দেশের বাইরেই ছিলেন৷ এই জয় তাই রাজ্য নেতাদেরই সাফল্য বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর বলেছেন, ‘উপনির্বাচন হল উপনির্বাচন৷ আসল ভোট নয়৷ এরপর মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় যখন বিজেপি প্রবল ভাবে জিতবে, তখন আমরা দেখাব যে, জনতা আমাদের সঙ্গে আছে৷’

সামনের মাসে দুই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ফের ঘুঁটি উল্টে ‘সুনমো’ আসতেই পারে৷ কিন্ত্ত সে জন্য এই উপনির্বাচনের ব্যর্থতা মোদি-অমিতকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবেই৷ কারণ সাফল্য হলে তা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, আর ব্যর্থতার দায় শুধুই আঞ্চলিক নেতাদের, তা কিন্ত্ত বিজেপির মতো নিয়মানুবর্তী দলে মানায় না৷ তাই এক মাসে রণকৌশল বদলে মোদি ম্যাজিক ফের সজীব হয়ে ওঠে কি না, সে দিকেই থাকবে নজর৷- ওয়েবসাইট।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ