দীর্ঘ ১৫০ দিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিজ্ঞ কুর্দি রাজনীতিক নিজার আমেদি। শনিবার (১১ এপ্রিল) দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর থেকে দেশটির ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আমেদি।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য মতে, প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) দলের মনোনীত প্রার্থী নিজার আমেদি পার্লামেন্টে ২২৭টি ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫টি ভোট। ইরাকের প্রচলিত ক্ষমতা বণ্টন ব্যবস্থা অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট পদটি কুর্দি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত।
নির্বাচনে জয়ের পর পার্লামেন্টে দেওয়া প্রথম ভাষণে নিজার আমেদি ‘ইরাক ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে ইরাক’ নীতি ঘোষণা করেন।
তিনি দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় সরকারের সব শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সময় ইরাকের ভূখণ্ডে হওয়া হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তা। তিনি এর আগে দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপতির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
দেশটির সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নতুন প্রেসিডেন্ট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দেশটিতে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ শিয়া দলগুলো নুরি আল-মালিকিকে এই পদের জন্য মনোনয়ন দিলেও তাতে যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র আপত্তি রয়েছে, যা ইরাকের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে।