শনিবার সকালেও দলের অনুশীলন তদারকি করেছেন, ব্যাটারদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছেন আসন্ন মিরপুর টেস্টের। সন্ধ্যার পর মোহাম্মদ আশরাফুল জানতে পারলেন তিনি আর নেই জাতীয় দলের সঙ্গে। আচমকা জাতীয় দল ছাড়তে হওয়ায় তার কণ্ঠে কিছুটা হাহাকারের সুর। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে চুক্তির ধরনের কথা বলেই সব মেনে নিচ্ছেন তিনি।
জাতীয় দল থেকে সরানো হলেও ব্যাটিং কোচ হিসেবে বিসিবির সঙ্গে আরও তিন মাস চুক্তি আছে আশরাফুলের। চুক্তির ধারা অনুযায়ীই তাকে জাতীয় দলের বাইরেও কাজে লাগাতে পারে বোর্ড।
পদ হারানো আশরাফুল রোববার বিকেলে আসেন গণমাধ্যমের সামনে। জানান, গত সন্ধ্যায় খবরটা জানানো হয় তাকে, ‘কালকেই জানানো হয়েছে, মাগরিবের পরে জানতে পেরেছি যে আসলে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ থেকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এবং বাকি সময় যে তিন মাস সময় আছে সেটা যখন অ্যাসাইনমেন্ট বা কোনো কাজ থাকবে তখন জানানো হবে।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট শুরু হওয়ার মাত্র চার দিন আগে এমন অদল-বদল আলোচনা তৈরি করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। আশরাফুল জানান, তার চুক্তিতেই এমন কিছু লেখা ছিল, ‘আমার চুক্তি এভাবেই লেখা ছিল যে, যদি উনারা মনে করেন আমাকে অন্য জায়গায় কাজে লাগাবেন সেটাও করতে পারেন।’
তবে আশরাফুল মনে করেন ওয়ানডে খারাপ গেলেও টেস্টে ভালো করছিলেন ব্যাটাররা, ‘ওয়ানডেতে ভালো করতে পারিনি, ত্রিদেশীয়তে, কিন্তু আমাদের টেস্ট দল কিন্তু খুবই গোছানো। আমি যখন ২০২৫ নভেম্বরে প্রথম ঢুকেছিলাম আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে দুইটা টেস্ট ম্যাচে, তখনই বলেছিলাম যে আমাদের টেস্ট দল সবচেয়ে গোছানো, অভিজ্ঞ। রেজাল্টও যদি আপনি দেখেন যে, আমি ঢোকার পরে আলহামদুলিল্লাহ আটটা টেস্ট ম্যাচে পাঁচটা জিতেছি, একটাতে ড্র। এবং ব্যাটসম্যানদের সবারই অ্যাভারেজ ৫০ টু ৫২ এবং ৪৫-৪৫ এরকম। তো ব্যাটসম্যানরা সবাই ভালো করছেন, প্রায় আট টেস্ট ম্যাচে ৯টা সেঞ্চুরি, ২২টা বা ২৩টা ফিফটি করেছে, ১০০ রানের পার্টনারশিপ আমাদের এভরি টেস্ট ম্যাচেই হয়েছে।’
‘যে দুইটা টেস্ট ম্যাচে আমরা পার্টনারশিপ করতে পারিনি, জিম্বাবুয়ে এবং ম্যাকাউতে ওই দুইটা টেস্ট ম্যাচে আমরা রেজাল্ট পাইনি। এছাড়া কিন্তু প্রত্যেকটা টেস্ট ম্যাচেই আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করেছেন।’
টেস্টে ব্যাটাররা ভালো করলেও আশরাফুল কেন পদ হারালেন? এটা স্পষ্ট করেনি বিসিবি। আশরাফুলের নিজেরও জানা নেই। এই কথায় কিছুটা হাহাকারের সুর বের হয় তার কণ্ঠে, ‘এটা ক্রিকেট বোর্ড ভালো বলতে পারবে, কেন নাই। কিন্তু যেহেতু পেশাদার কোচ আমি, ক্যারিয়ারের মাত্র শুরু। আমি ভাগ্যবান যে আসলে শুরুতেই এত বড় একটা কাজ করতে পেরেছি বাংলাদেশ দলের হয়ে। সামনে হয়তোবা আরও অনেক কিছু শিখবো ইনশাআল্লাহ, তারপর আরও ভালো ভালো কাজ করব।’