রাওয়ালপিন্ডির নিখাঁদ ব্যাটিং স্বর্গে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ম্যাচে চার-ছক্কার যে তাণ্ডব বয়ে গেল, তা ৫০ ওভারের ক্রিকেটের দুই দশকের পুরোনো অনেক ইতিহাস ও সমীকরণ বদলে দিয়েছে। ইংল্যান্ডের তোলা ৪২৯ রান টপকে শ্রীলঙ্কার ১ বল হাতে রেখে ৪৩০ রান তুলে অবিশ্বাস্য ম্যাচ জিতেছে শ্রীলঙ্কা। এই ম্যাচ দেখেছে একাধিক রেকর্ড, ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে বাউন্ডারির বিশ্বরেকর্ড।
পরিসংখ্যান ও রেকর্ডের আয়নায় ইংল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা ম্যাচের মহাকাব্যিক সমীকরণ:
চার ও ছক্কার যে বৃষ্টি নেমেছিল, তাতে ক্রিকেট ইতিহাস দেখেছে বাউন্ডারি থেকে রান ওঠার সর্বকালের নতুন বিশ্বরেকর্ড। ম্যাচে সংগৃহীত ৮৫৯ রানের মধ্যে ৫৫২ রানই এসেছে চার ও ছক্কা থেকে! ৯৩টি চার থেকে ৩৭২ রান এবং ৩০টি ছক্কা থেকে ১৮০ রান—সব মিলিয়ে বাউন্ডারি থেকেই এল ৫৫২ রান (মোট রানের ৬৪.২৫%)।
এর আগে ওয়ানডেতে বাউন্ডারি থেকে ৫০০-র বেশি রান ওঠার একমাত্র ঘটনাটি ছিল ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে (৮৭টি চার ও ২৬টি ছক্কায় ৫০৪ রান)। সেই ৫০৪ রানের রেকর্ড ভেঙে রাওয়ালপিন্ডির এই ম্যাচটি এখন বাউন্ডারি থেকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে ওয়ানডে ইতিহাসের শীর্ষে বসে গেল।
২. এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারের নতুন বিশ্বরেকর্ড (৯৩টি)
২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে উঠেছিল ৮৭টি চার, যা গত দুই দশক ধরে এক ওয়ানডে ম্যাচে সর্বোচ্চ চারের বিশ্বরেকর্ড ছিল। রাওয়ালপিন্ডিতে সেই রেকর্ড ভেঙে গড়ে উঠল নতুন মাইলফলক। দুই দল মিলে এই ম্যাচে মারল মোট ৯৩টি চার! ইংল্যান্ড মারে ৪৩টি চার এবং শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের ব্যাট থেকে আসে ৫০টি চার।
এক ওয়ানডে ম্যাচে সর্বোচ্চ চার (দুই দল মিলিয়ে):
৯৩টি — ইংল্যান্ড (৪৩) বনাম শ্রীলঙ্কা (৫০) — রাওয়ালপিন্ডি, ২০২৬
৮৭টি — দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৪) বনাম অস্ট্রেলিয়া (৪৩) — জোহানেসবার্গ, ২০০৬
৭৯টি — ভারত (৪৩) বনাম শ্রীলঙ্কা (৩৬) — রাজকোট, ২০০৯
৭৫টি — দক্ষিণ আফ্রিকা (৪২) বনাম অস্ট্রেলিয়া (৩৩) — ডারবান, ২০১৬
৩. সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া (দ্বিতীয় স্থান)
২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান টপকে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪ ৩৮ রান তোলার ঘটনা ছিল ওয়ানডে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া। ২০ বছর পর সেই রেকর্ডের ঠিক পেছনেই জায়গা করে নিল শ্রীলঙ্কা। ১ বল বাকি থাকতে ৪৩০ রান তুলে ইংল্যান্ডকে হারায় লঙ্কানরা।
৪৩৫ — দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম অস্ট্রেলিয়া (জোহানেসবার্গ, ২০০৬)
৪৩০ — শ্রীলঙ্কা বনাম ইংল্যান্ড (রাওয়ালপিন্ডি, ২০২৬)
৪০৬ — ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (গুয়াহাটি, ২০২৬)
৩৭৫ — নেদারল্যান্ডস বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ (হারারে, ২০২৩)
৪. এক ম্যাচে ৮৫৯ রান: ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মিলিত রান
দুই দল ৫০ ওভারে মিলে তুলল ৮৫৯ রান! ওয়ানডে ইতিহাসে এর চেয়ে বেশি রান দেখা গেছে কেবল একটি ম্যাচে—২০০৬ জোহানেসবার্গে (৮৭২ রান)। চার ও ছক্কার এই ঝড়ে রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়াম ওয়ানডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের সাক্ষী হলো।
এক ওয়ানডেতে দুই দল মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান:
৮৭২ — অস্ট্রেলিয়া (৪৩৪) ও দক্ষিণ আফ্রিকা (৪৩৮) — জোহানেসবার্গ, ২০০৬
৮৫৯ — ইংল্যান্ড (৪২৯) ও শ্রীলঙ্কা (৪৩০) — রাওয়ালপিন্ডি, ২০২৬
৮২৫ — ভারত (৪১৪) ও শ্রীলঙ্কা (৪১১) — রাজকোট, ২০০৯
৮১১ — ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৪০৫) ও ভারত (৪০৬) — গুয়াহাটি, ২০২৬
৫. ছক্কার ঝড়: এক ম্যাচে ৩০টি ছক্কা
ম্যাচে ছক্কা হয়েছে মোট ৩০টি (শ্রীলঙ্কা ১৮টি, ইংল্যান্ড ১২টি)। এক ওয়ানডে ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৩০টি ছক্কা হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কার তালিকায় এটি যৌথভাবে ৫ম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে (২০১৩ সালে বেঙ্গালুরুতে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচেও হয়েছিল ৩০টি ছক্কা)।
(ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ৪৬টি ছক্কার রেকর্ড রয়েছে ২০১৯ সালে সেন্ট জর্জে ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে।)
১১৪ বলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েও দলকে জেতাতে পারলেন না হ্যারি ব্রুক। তার করা ২০২ রান ওয়ানডে ইতিহাসে হেরে যাওয়া ম্যাচে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড।
হেরে যাওয়া ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান:
২০২ — হ্যারি ব্রুক (ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা, রাওয়ালপিন্ডি ২০২৬)