সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাবে জমা ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও মনিরুল ইসলামের স্ত্রী সায়লা ফারজানা, মনিরুলের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।
এর আগে দুদকের পক্ষে উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেন এসব আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের নামে ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার নামে পাঁচটি হিসাবে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা, শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের নামে ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা রয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা লোপাট, জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা অবৈধ সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তারা ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে তথ্য রয়েছে।
অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্র অনুযায়ী, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাব পাওয়া গেছে। এসব হিসাব থেকে অর্থ তুলে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বর্ণিত সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের সমূহ ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.