রোববার রাত ১২টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এই ঘটনা ঘটে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বাগেরহাটে মধ্যরাতে হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার সাকিয়া হক রাতেই ফেইসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি এ ঘটনার জন্য বাগেরহাট জেলা শ্রমিক দলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ হানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন।
রাতে কক্ষে এসে গলাগাল করার অভিযোগ করে তিনি বলেন, “৮-১০ জন সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে এসে মারমুখি হন। কারণ একটাই, আমাদের ওয়ার্ড বয় ক্যানুলা মিস করেছে।”
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদল নেতা আবু হানিফ হানু রাত ১২টার দিকে পেটের ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তখন জরুরি বিভাগে সাকিয়া হক চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। প্রথমে রোগীর ইসিজি করা হয়। হৃদরোগের কোনো লক্ষ্মণ না পাওয়ায় রোগীকে গ্যাসের সমস্যার জন্য ইনজেকশন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইনজেকশন দেওয়ার জন্য রোগীর শরীরে ক্যানুলা পরাতে গিয়ে প্রথমবার ব্যর্থ হন সংশ্লিষ্ট ইন্টার্ন চিকিৎসক। দ্বিতীয়বারও একজন ওয়ার্ড বয় চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তখন জরুরি বিভাগের লোকজন ক্যানুলা করতে অভিজ্ঞ শিশু বিভাগের নার্সদের ডাকতে যান।
সহকারী রেজিস্ট্রার সাকিয়া হকের অভিযোগ, “এর মাঝেই রোগীর সঙ্গে আসা ব্যক্তিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা আমার কক্ষে ঢুকে গালাগাল শুরু করেন এবং বারবার মারতে তেড়ে আসেন। চেঁচামেচির শব্দ শুনে হাসপাতালের কর্মী ও অন্য রোগীর স্বজনরা এগিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের কর্মীরা তাদের কক্ষ থেকে সরিয়ে দেন।
“এটা নতুন কিছু না। এমন ঘটনা মাঝে মধ্যেই হয়। অন্য চিকিৎসকদের সঙ্গেও ঘটে। এমন পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া কঠিন। রাতে কেউ থাকে না। এমন হলে ভয় লাগে। হাসপাতাল ছাড়াও তো বাইরে বের হতে হয়। আমি এসব নিয়ে আর প্যারা নিতে চাই না।”
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, “এই ঘটনায় আমরা মর্মাহত। কোনো হাসপাতালেই এই পরিবেশ মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালে ৫০০ উপরে রোগী ভর্তি। কিন্তু কর্মী আছে পদের তিন ভাগের এক ভাগ। তার মাঝেও সবাই সেবা দিতে চেষ্টা করছেন। এমন ঘটনা দুঃখজনক।”
তিনি বলেন, দুপুর পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়নি।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ওসি মো. সামসুল আরেফিন বলেন, “এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ব্যাপারে জানতে শ্রমিকদল নেতা আবু হানিফ হানুর মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
শ্রমিকদলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে জেলা শ্রমিকদলের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটিতে সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী ও আবু হানিফ হানু সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সেই কমিটির মেয়াদ ছিল মাত্র পাঁচ দিন। পাঁচ দিন পরেই সেই কমিটি কেন্দ্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়। এর পর থেকে জেলায় শ্রমিকদলের আর কোনো কমিটি হয়নি।
বাগেরহাট জেলা শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি সরদার লিয়াকত আলী বলেন, “তুচ্ছ ঘটনায় চিকিৎসকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। আমি এ ঘটনার নিন্দা জানাই।”
মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি
‘রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: ডিজিটাল সংবাদপত্রের পথিকৃৎ