1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন

২০২৭ সালের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় বিএনপি

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২১ Time View

আগামী বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এর মাধ্যমে নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানো, অভ্যন্তরীণ বিরোধ মীমাংসা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নিতে চায় দলটি।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, একই পদে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা এবং দলীয় কোন্দলের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। নির্বাচনের আগে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটিগুলো পুনর্গঠন, দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির।

শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া বৈঠক চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়।

দুর্গাপূজা ঘিরে দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে স্থানীয় পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

দলীয় সূত্র অনুযায়ী, সম্প্রতি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌরসভার জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর বিষয়ে তারেক রহমানকে অবহিত করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইসমাঈল জবিউল্লাহ।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনা এবং সম্ভাব্য বিরোধ আগেভাগে মীমাংসার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দেন কয়েকজন নেতা। তবে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছে দলটি।

এর আগে সরকার জানিয়েছিল, আগামী বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর বা ডিসেম্বরে নির্বাচন না করে পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে ভোট আয়োজনের কথা বিবেচনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হবে না। ফলে একই পদে বিএনপির একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এতে দলটির ভোট বিভক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান।

বৈঠকে কমিটির এক সদস্য নির্বাচন কমিশন আজ (১২ অক্টোবর) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে বলে সম্ভাবনার কথা তোলেন। তবে অন্য সদস্যরা বলেন, এ বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে কোনো দায়িত্ব দেয়নি; ফলে এ পর্যায়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার কমিশনের নেই।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির অপেক্ষায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ ধরনের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হয়। এগুলো হলো— ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে তাদের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। ২০২৬ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে সরকার-নিযুক্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২০২১ সালের ২১ জুন শুরু হয় এবং সাত ধাপে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে।

দেশের সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা। আইন অনুযায়ী, এসব পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ