পাবনার বেড়ায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই মহল্লার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত ১৫টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বেড়া পৌর এলাকার নাজিম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া পৌর এলাকার বেড়া বিবি পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বেশ কিছুদিন ধরে ওয়ার্ডভিত্তিক ফুটবল প্রতিযোগিতা চলছিল। রোববার প্রতিযোগিতায় পৌরসভার ২ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে ড্র হয়। পরে পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে খেলার ফল নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
একপর্যায়ে ২ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম মহল্লার বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পাশাপাশি অন্তত ১৫টি দোকান ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের অনেকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
খবর পেয়ে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বেড়া মডেল থানার পুলিশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও সুজানগর থানা এবং পাবনা পুলিশ লাইনসের পুলিশ সদস্য ও এসআরবি সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
বেড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার সরকার সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পুলিশ ও এসআরবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকায় যাতে নতুন করে সংঘর্ষ না হয়, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বেড়ার ইউএনও রুনাল্ট চাকমা বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।