চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ রফিকুল আমিন
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক টিপু আলম মিলন
ঠিকানা বৈশাখী মিডিয়া লিমিটেড ৩২, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা, লেভেল – ৭, ঢাকা-১২১২ টেলিফোনঃ ৫৮৮১৭০০১-৫ ফ্যাক্সঃ ৫৮৮১৭৫৪১ ই-মেইলঃ [email protected]
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা ৮ দিন বন্ধ থাকবে দেশের বৃহত্তম বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। এ সময়ে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে।
পাশাপাশি দুই দেশের বন্দরে পণ্যজট ও যানজটের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। তবে এ সময়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি। তিনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে পাঁচ দিন (১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ) আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। তবে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর (রোববার) সকাল থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানি শুরু হবে। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশের অর্থনীতিতে বেনাপোল বন্দরের ভূমিকা অপরিসীম।
বেনাপোল থেকে কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৪ কিলোমিটার। এ কারণে আমদানিকাররা এ পথে পণ্য আমদানিতে বেশি আগ্রহী। প্রতিদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সাড়ে ৩৫০ থেকে সাড়ে ৪৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আসে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০০ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যও এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়।
ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
এক দিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও দুই দেশের বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে টানা আট দিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলে দুই দেশের বন্দরে তীব্র যানজট ও পণ্যজট তৈরি হতে পারে। বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি ছুটি রয়েছে। এবার পূজায় দীর্ঘ ছুটি পেয়ে তাদের সদস্যরা খুশি। ২৫ অক্টোবর (রোববার) সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে আবারও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।