1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

এলডিসি উত্তরণের আগে প্রধান বাজারগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে জোর দিচ্ছে সরকার; ৩৮ দেশের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ Time View

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের (গ্র্যাজুয়েশন) পর বিশ্ববাজারে রপ্তানি সক্ষমতা ও শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে, ১০টি দেশ ও অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে সরকার।

দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ১৯ দেশের আঞ্চলিক জোট রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি বা আরসেপ) যোগ দেওয়ার উদ্যোগও চলছে। একই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের তাগিদে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারিত এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা, আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে সরকার।

গত ৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৮টি সম্ভাব্য অংশীদার দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, তুরস্ক, নেপাল, কানাডা ও মরিশাসের সঙ্গে এফটিএ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সঙ্গে চলছে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) নিয়ে কার্যক্রম।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, বেশ কয়েকটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে:

#জাপান: ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে বাংলাদেশ—যাকে মন্ত্রণালয় দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক এফটিএ হিসেবে বর্ণনা করেছে। চুক্তিটি বর্তমানে অনুমোদনের (র‍্যাটিফিকেশন) অপেক্ষায় রয়েছে।

#ইউরোপীয় ইউনিয়ন: ইইউ-র সঙ্গে একটি এফটিএ সইয়ের অনুরোধ জানিয়ে গত এপ্রিলে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনকে চিঠি লেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উভয় পক্ষই ইতিমধ্যে দর-কষাকষির জন্য টিম গঠন করেছে। অক্টোবর মাসের শেষ বা নভেম্বরের মধ্যে প্রথম ধাপের অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

#দক্ষিণ কোরিয়া: দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এটি সইয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

#সিঙ্গাপুর ও ইউএই: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চার দফার এফটিএ আলোচনা শেষ হয়েছে এবং ছয় দফার বৈঠকের পর তা চূড়ান্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, আমিরাতের সঙ্গে সেপা আলোচনা মার্চে তৃতীয় ধাপে প্রবেশ করছে, যা চলতি বছরের শেষ নাগাদ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

#মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া: ২০টি অধ্যায় সংবলিত একটি এফটিএ-র জন্য মালয়েশিয়া টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) বা আলোচনার শর্তাবলী চূড়ান্ত করেছে। আগামী ২৭–২৯ অক্টোবর ঢাকায় তাদের সঙ্গে প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নেপালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির (পিটিএ) খসড়া বিনিময় হয়েছে এবং ২০২০ সালের পিটিএ-র আওতায় ভুটানের সঙ্গে বাণিজ্য বিস্তারের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে।

উত্তরণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন বিবেচনাধীন

এলডিসি উত্তরণের নির্ধারিত সময়সীমা আগামী ৩ বছর বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের জাতিসংঘ উন্নয়ন নীতি কমিটির (ইউএন-সিডিপি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা দিয়েছে বাংলাদেশ, যা বর্তমানে পর্যালোচনায় রয়েছে।

এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ প্রধান বৈশ্বিক বাজারগুলোতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধার একটি বড় অংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। রপ্তানিকারকরা সতর্ক করে বলেছেন, এর ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য সক্ষমতা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি থমকে যেতে পারে। এর জবাবে সরকার একটি 'ট্রেড নেগোশিয়েশন পুল' এবং বাজার সুবিধা বজায় রাখার রূপরেখা তৈরি করছে।

মার্কিন বাজারের অনিশ্চয়তা সামাল দেওয়া

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ধরে রাখার গুরুত্বও বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ৪.০৯ শতাংশ বেড়ে ৯.০৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তবে সেখানে বাণিজ্যিক শর্তাবলী এখনো পরিবর্তনশীল। গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এক পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে মার্কিন শিল্প ও কৃষি পণ্যে সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছিল। শুরুতে বিশেষ পোশাক কোটায় শূন্য-শুল্ক সুবিধার কথা থাকলেও তা বর্তমানে কার্যকর নেই, যার ফলে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকে গড় শুল্ক ২৫.৬২ শতাংশে রয়ে গেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিজিএমইএ—উভয় পক্ষই বাজার প্রবেশাধিকার ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ বজায় রাখাকে অত্যাবশ্যক মনে করছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার জন্য তিন বছর মেয়াদি শুল্কহার কোটা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে, যা কার্যকর হলে মার্কিন তুলা ও টেক্সটাইল কাঁচামাল দিয়ে তৈরি বাংলাদেশি পণ্য সেকশন ৩০১ শুল্ক থেকে অব্যাহতি পেতে পারে।

কৌশলী ও সুনির্দিষ্ট হওয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাণিজ্য বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত কৌশল ছাড়া কেবল একাধিক বাণিজ্য চুক্তি সই করলেই আপনা-আপনি সুফল মিলবে না।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক টিবিএসকে বলেন, অনেক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করলেই বাংলাদেশ লাভবান হবে বা ঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে—এমন নয়। কারণ, যেসব দেশের সঙ্গে চুক্তি করা হবে, তাদের জন্যও বাংলাদেশের বাজার উন্মুক্ত করতে হবে। এ জন্য আগে এফটিএ কৌশল ঠিক করা প্রয়োজন।

প্রতিটি চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটুকু লাভ বা ক্ষতির সম্মুখীন হবে তা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

ইইউ-কে অগ্রাধিকার দেওয়া: ইইউ-র সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করা জরুরি, কারণ সেখানকার সুবিধা হারালে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি ঝুড়ির প্রায় অর্ধেক ঝুঁকিতে পড়বে।

নির্বাচিত মনোযোগ: সিঙ্গাপুরের সঙ্গে চুক্তি করে বিশেষ সুবিধা হবে না, কারণ তারা এমনিতেই অধিকাংশ পণ্যে শূন্য শুল্ক বজায় রাখে। একইভাবে বাংলাদেশ যদি আরসেপ- জোটে যোগ দিতে পারে, তাহলে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলাদা এফটিএ করার গুরুত্ব থাকবে না।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান মনে করেন, কোনো বাণিজ্য চুক্তিই প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প হতে পারে না।

তিনি বলেন, "শুধুমাত্র সস্তা শ্রম দিয়ে আর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে লজিস্টিকস, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে কাজ করতে হবে। বহু বছর আলোচনার পরও আমাদের রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আসেনি; এখন আমাদের অপারেশনাল বাধাগুলো দূর করতে হবে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ নীতিকে আধুনিক করতে হবে।"

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ