দেশের সীমানা আলাদা হলেও হৃদ্যতার সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি দূরত্ব। ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকর ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলীর বন্ধুত্ব ছিল তেমনই এক উদাহরণ। ১৯৯৪ সালে পরিচয়ের পর দীর্ঘ তিন দশক ধরে তাঁদের সম্পর্ক টিকে ছিল আন্তরিকতায়। এবার প্রিয় সেই মানুষটির মৃত্যুর খবরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন বাসিত। জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়গুলোতে কীভাবে পাশে থাকতেন নানা।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বাসিত আলী। সেখানে অভিনেতার সঙ্গে প্রথম পরিচয় থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের নানা অজানা গল্প তুলে ধরেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার। তাঁর কথায়, নানা পাটেকরের সঙ্গে সম্পর্ক কেবল সিনেমা কিংবা ক্রিকেট নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা হয়ে উঠেছিল গভীর আত্মিক বন্ধন।
বাসিত জানান, তাঁর মা হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় নিয়মিত ফোন করে খোঁজ নিতেন নানা। মায়ের সুস্থতার জন্য প্রার্থনাও করতেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলার পাশাপাশি শুনতেন পুরোনো দিনের গল্প। মায়ের মৃত্যুর পরও বাসিতকে মানসিকভাবে সাহস জুগিয়েছিলেন এই অভিনেতা।
Former Pakistan cricketer Basit Ali’s emotional tribute to Nana Patekar is a beautiful reminder of a friendship that transcended borders. He recalled how the Bollywood legend stayed in touch for decades, checked on his mother during her illness, and reached out after Basit’s own heart surgery. Beyond the screen, Basit remembered Nana as a warm, caring and genuinely good human being. His words also showed just how deeply Nana Patekar was admired in Pakistan. Some artists belong to everyone. Nana Patekar was loved equally on both sides of the border. 🇮🇳❤️🇵🇰
সেই পুরোনো স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে বাসিত বলেন, ‘এখন কত স্মৃতি মনে পড়ছে! সাধারণত মাসে এক-দুবার আমাদের কথা হতো। মা যখন বেঁচে ছিলেন এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, নানা প্রতি সপ্তাহে ফোন করতেন। মায়ের জন্য প্রার্থনা করতেন, তাঁর সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলতেন, পুরোনো দিনের গল্প শুনতেন। মা মারা যাওয়ার পর নানা আমাকে বলেছিলেন, “বাসিত, এবার নিজের খেয়াল রেখো।”’
শুধু মায়ের অসুস্থতা কিংবা মৃত্যুর সময়ই নয়, নিজের শারীরিক অসুস্থতার সময়ও নানার আন্তরিকতা পেয়েছেন বাসিত। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার হার্টের সমস্যা হয়েছিল। চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরতেই নানার বার্তা পেয়েছিলাম। আমার শরীর কেমন আছে, তা জানতে চেয়েছিলেন। নানা বলেছিলেন, একটু সুস্থ বোধ করলে যেন ফোন করি। পরে ফোন করতেই জানতে চেয়েছিলেন, সব কিছু ঠিকঠাক হয়েছে কি না, হার্টে স্টেন্ট বসানোর চিকিৎসা কেমন হয়েছে।’
নানা পাটেকরকে ঘিরে বাসিত আলীর এই স্মৃতিচারণা যেন আরও একবার মনে করিয়ে দিল, সত্যিকারের বন্ধুত্বের কাছে ভৌগোলিক সীমানা কিংবা জাতীয়তার পরিচয় বড় হয়ে ওঠে না। মানুষের প্রতি আন্তরিকতা আর বিপদের দিনে পাশে থাকার মানসিকতাই একটি সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
প্রসঙ্গত, নানা পাটেকরের মৃত্যুতে চলচ্চিত্রজগতের বহু মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা স্মৃতিও ভাগ করে নিচ্ছেন পরিচিতজন ও অনুরাগীরা।