সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ বিমানবন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায় বিমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। ফলে বিমানের নির্ধারিত ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা ফ্লাইট ‘বিজি৩৩৯’ এবং ‘বিজি৩৪০’ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিতে থাকবে। তাই এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দরে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিমান কর্তৃপক্ষ সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে এবং এসব ফ্লাইটের পুনঃনির্ধারণ বা অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীরা তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য বিমানের কল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা নিকটতম বিমানের বিক্রয় অফিসে যেতে পারেন। এ ছাড়া হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য যোগাযোগমাধ্যমে তা প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদে কি খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরের কিছু অংশ থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দুজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিমানবন্দরটিতে হুথিদের বারবার হামলার কারণে ইতোমধ্যে কিছু বিমান পরিষেবা সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই শনিবারের এ ঘটনা ঘটল। চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে এর আগেও দুবার হামলা হয়েছে। এতে চারজন নিহত ও আরও অনেকে আহত হয়েছেন এবং একটি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যানুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইট হয় অন্য গন্তব্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অথবা বাতিল করা হয়েছে। কেবল একটি হেলিকপ্টারকে বিমানবন্দরের ওপর চক্কর দিতে দেখা গেছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের পরামর্শ দিয়েছে, যেন তারা বিমানবন্দরে যাওয়ার আগে সরাসরি নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা জেনে নেন।
কুয়েত এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরের ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ কারণে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা সৌদি আরবের রাজধানীতে তাদের সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজ আগেই তাদের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এ ছাড়া কিছু ফ্লাইট বাতিলের সময়সীমা আগামী সোমবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ও সপ্তাহের শুরুর দিকে হুথিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা সৌদির রাজধানীতে তাদের পরিষেবা স্থগিত বা বাতিল করেছিল।