বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো প্রথম বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও এই ধরনের ড্রাফট হলো সম্ভবত প্রথমবার।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রমরমা এই যুগে ড্রাফট কিংবা এখন নিয়মিতই দেখা যায়। তবে মিরপুরে এবার যে ধরনের ড্রাফট হলো, বাংলাদেশের ক্রিকেটে তো প্রথম বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটেও আগে কখনও হয়েছে কি না সন্দেহ! সাধারণত কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট মিলে ক্রিকেটার বাছাই করা হয় এই ধরনের আয়োজনে। এবার হলো উল্টো। দলের কর্ণধার, ক্রিকেটার ও দল সংশ্লিষ্টরা মিলে বেছে নিলেন প্রধান কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের অন্যদের!
দেশের ক্রিকেটের প্রথম ‘টিম ম্যানেজমেন্ট ড্রাফট’ হয়ে গেল মঙ্গলবার দুপুরে। তিন সংস্করণ মিলিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন আসর ‘ডি থ্রি’ ট্রফির ছয় দলের কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ বাছাই করা হলো এই আয়োজনে।
প্রতিটি দল বেছে নিয়েছে একজন প্রধান কোচ, দুজন করে সহকারী কোচ, একজন করে ফিজিও, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ও পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট।
ড্রাফট টেবিলে ওয়ালটনের হয়ে অন্যদের সঙ্গে ছিলেন দলটির আইকন ক্রিকেটার মেহেদী হাসান মিরাজ, এইস ব্লুস্টারের টেবিলে ছিলেন তাদের আইকন নুরুল হাসান সোহান, সেভেন রিংস সিমেন্টের হয়ে ছিলেন আইকন মুশফিকুর রহিম।
প্রধান কোচ বাছাই করা দিয়ে শুরু হয় আয়োজন। ড্রাফটে লটারিতে প্রথম ডাকার সুযোগ পায় এইস ব্লুস্টার। তারা কোচ হিসেবে বেছে নেন সোহেল ইসলামকে। কোচ হিসেবে একমির পছন্দ রাজিন সালেহ, সিটিজেন ব্যাংকের কোচ মিজানুর রহমান বাবুল।
লটারিতে প্রথম তিন দলের কোনোটিই বেছে নেয়নি দেশের সেরা কোচদের একজন বলে বিবেচিত ও বিপিএলের সফলতম কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকে। চতুর্থ ডাকে সুযোগ পেয়ে তাকে নেন ফরচুন গ্রুপ।
এছাড়া সেভেন রিংস সিমেন্টের কোচ তালহা জুবায়ের, ওয়ালটনের কোচ আব্দুর রাজ্জাক।
এবার জাতীয় লিগে খুলনার দায়িত্ব দিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে যাত্রা শুরু হচ্ছে রাজ্জাকের। সাবেক এই বাঁহাতি স্পিনার আরেকটি বড় দায়িত্বও পেয়ে গেলেন।
লটারিতে চার নম্বর হয়েও সালাউদ্দিনকে কোচ হিসেবে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ফরচুনের প্রধান ও বিপিএল দল ফরচুন বরিশালের কর্ণধার মিজানুর রহমান।
“আমি চার নাম্বার হয়েও সালাউদ্দিন ভাইকে পেয়েছি। চিন্তা করতে পারেন! সিরিয়ালে নাম্বার ফোর হয়েছি, তারপরও আমি সালাউদ্দিন ভাইকে পেয়েছি। আমার তালিকায় এক নম্বরে ছিল সে। ফিজিও আমি পেয়েছি পছন্দমতো। মনে মনে চিন্তা করেছি, তাকে পেয়েছি।
আমি সবসময় বলে থাকি, আপনারা মনে করছেন যে, বিপিএল হচ্ছে না। আমার মনে হচ্ছে, এটা বিপিএলের চেয়ে অনেক বড় একটা টুর্নামেন্ট হবে। আপনারা দেখবেন।”
ড্রাফট টেবিলে থেকে কোচ কাছাই করার অভিজ্ঞতা শোনানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্ট নিয়ে ভাবনা জানালেন জাতীয় দলের অলরাউন্ডার মিরাজ।
“এই প্রথম আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেট এই ফরম্যাটে হচ্ছে এবং অবশ্যই ক্রিকেট বোর্ডকে এটার জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা যেভাবে ফরম্যাট সাজিয়েছে এবং সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে দলটা ভালো করার জন্য। কোচদের তালিকা আগে থেকেই ছিল। টিম ম্যানেজমেন্ট সেট করেছে যে কোন পজিশনে কোন কোচকে নেওয়া হবে এবং তারা এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার ছিল, গত বিপিএলের চ্যাম্পিয়ন দলের কোচ হান্নান সরকারকে প্রধান কোচ হিসেবে নেয়নি কোনো দল। তবে সহকারী কোচ হিসেবে তাকে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট।
প্রতিটি দল তাদের ম্যানেজার ঠিক করবে নিজেরই। এইস ব্লুস্টার তাদের ম্যানেজার চূড়ান্ত করেও ফেলেছে। সাবেক অধিনায়ক, সাবেক বিসিবি পরিচালক ও জাতীয় দলের সাবেক ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ পালন করবেন এই দায়িত্ব।
ছয়টি দল নিয়ে হবে এই থ্রি ডি ট্রফি। একই দল অংশ নেবে চার দিনের ম্যাচ, ৫০ ওভারের ক্রিকেট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। প্রতি দলের স্কোয়াডে থাকবে ২৩ ক্রিকেটার। টুর্নামেন্টের জন্য ক্রিকেটারদের নিলামা কিংবা ড্রাফট হবে আগামী ২৬ অক্টোবর। টি-টোয়েন্টি দিয়ে আসর শুরু হবে আগামী ১৫ ডিসেম্বর। এরপর চার দিনের ম্যাচের আসর হবে জানুয়ারি, ৫০ ওভারের আসর মে মাসে।
ম্যানেজমেন্ট ড্রাফটে যাকে নিল যে দল:
প্রধান কোচ: সোহেল ইসলাম, সহকারী কোচ: সালাউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, আশিকুর রহমান
ট্রেনার: রুবাইয়াত হক, ফিজিও: জয় বিশ্বাস, অ্যানালিস্ট: এসএম জুলফিকার আলি।
প্রধান কোচ: রাজিন সালেহ, সহকারী কোচ: তারেক আজিজ, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স
ট্রেনার: তুষার কান্তি হাওলাদার, ফিজিও: আবু রেজা মো: শরিফুল ইসলাম, অ্যানালিস্ট: সন্দীপ কুমার।
প্রধান কোচ: মিজানুর রহমান বাবুল, সহকারী কোচ: নাজমুল হোসেন, মোহাম্মদ সেলিম
ট্রেনার: কৈলাশনিশি রায় বসু, ফিজিও: খাইরুল ইসলাম, অ্যানালিস্ট: অনীক নিয়োগী
প্রধান কোচ: মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, সহকারী কোচ: মোহাম্মদ আশরাফুল, আব্দুল কাইয়ুম জুয়েল।
ট্রেনার: মনিরুজ্জামান, ফিজিও: বায়জেদুল ইসলাম খান, অ্যানালিস্ট: এমদাদুল হক।
প্রধান কোচ-তালহা জুবায়ের। সহকারী কোচ- হান্নান সরকার, হুমায়ুন কবির শাহীন।
ট্রেনার: ইফতেখারুল ইসলাম ইফতি, ফিজিও: দেলোয়ার হোসেইন, অ্যানালিস্ট: জাহান-ই-আলম।
প্রধান কোচ: আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী কোচ: তুষার ইমরান, ডলার মাহমুদ।