মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
একাত্তরের পরাজিত শক্তি আর ফ্যাসিবাদের দোসররা সরকারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে বলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেছেন, “ফ্যাসিবাদের দোসররা দিল্লির অট্টালিকায় বসে বলছে, তারা ডিসেম্বরে ফিরে এসে আমাদের দেখে নেবে। আর একাত্তরের পরাজিত শক্তি ডিসেম্বরে আমাদের পতনের কথা বলছে।
“আজ দুই অপশক্তি একত্রিত হয়েছে আমাদের দেখে নেওয়ার উদ্দেশ্যে। কারণ আমরা জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পেরেছি এবং তাদের ভালোবাসা অর্জন করতে পেরেছি।”
রোববার বিকালে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিশ্বদরবারেও তিনি আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘে তার বক্তব্যের পরই স্বীকৃতি এসেছে যে, তিনিই বাংলাদেশের প্রকৃত নেতা। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মনে কোনো হিংসা বা বিদ্বেষ নেই; কিন্তু প্রতিপক্ষরা বিষয়টি মেনে নিতে পারছে না বলেই নানাবিধ ষড়যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।”
নেতাকর্মীদের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা নিয়ে এসেছি, মানিকগঞ্জের মাটিতে কাউকে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না।”
প্রতিবেশী দেশের সমালোচনা ও বিদ্যুৎ সংকট বিষয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমাদের কোনো প্রতিবেশী প্রভু নেই, আছে কেবল বন্ধু। আদানি আমাদের বিদ্যুৎ দিত। তবে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি করে জনমনে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা সরবরাহ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে।
“এ ছাড়া কুইক রেন্টাল কেন্দ্রগুলো ছিল মূলত ‘চোরের রেন্টাল’, যা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।”
কৃত্রিম সার সংকট বিষয়ে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, “যাদের সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছিল, তারা ফ্যাসিবাদের এজেন্ট হলেও একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা কাউকেও বাদ দিইনি; কারণ আমাদের কোনো রাজনৈতিক বিদ্বেষ নেই।
“কিন্তু তারা সেই সততা ও ঈমান রক্ষা করেনি। সারের ডিলাররা সার চড়া দামে বিক্রি করে দেশের বিভিন্ন জেলায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছিল। আমরা তৎক্ষণাৎ আমাদের নেতা তারেক রহমানের দূরদর্শিতায় তা উদ্ঘাটন করেছি এবং অত্যন্ত কঠোর হস্তে সেই সংকট মোকাবিলা করেছি।”
পলাতক ফ্যাসিস্ট ও অপরাজনৈতিক শক্তিকে মাঠে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আজাদ খানের সভাপতিত্বে এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদের সঞ্চালনায় সভায় মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মইনুল ইসলাম খান শান্ত বক্তব্য দেন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: অনুকম্পা নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এখনই
গণতন্ত্রের আম্পায়ার যখন প্রশ্নের মুখে: ভারতে নির্বাচন কমিশন বিতর্ক
জাসদ কার্যালয়ে গণআটক: মব কি এবার রাষ্ট্রসম্মত হলো?
পর্যটনে বাংলাদেশ: সম্ভাবনার দেশ, দায়িত্বহীনতার শিল্প